Last Updated on 28 seconds by zajira news
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: বিশ্বের প্রথম ‘উড়ন্ত গাড়ি’ (ফ্লাইং কার) উন্মোচন করেছেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোম্বর) উন্মোচিত নতুন এই বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারটি আকাশে উড়তে, শূন্যে ডিগবাজি খেতে এবং মাত্র ০ দশমিক ৮১ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল গতি তুলতে সক্ষম।
মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের সঙ্গে অংশীদারিত্বে নতুন করে নকশা করা টেসলার এই ‘রোডস্টার’ গাড়িটিতে বিশেষ থ্রাস্টার বা রকেট প্রপালশন প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এর সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় ২৩০ মাইলেরও বেশি। ২০২৮ সালে গাড়িটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্কের শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাদা রঙের দৃষ্টিনন্দন গাড়িটি চারদিকে সাদা ধোঁয়া ছড়িয়ে আকাশে উড়ে যাচ্ছে এবং নিচে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ির ওপর শূন্যে ডিগবাজি খেয়ে মসৃণভাবে মাটিতে নেমে আসছে। ভিডিওর ক্যাপশনে মাস্ক লেখেন, ‘দেখা যাচ্ছে ভবিষ্যতেও উড়ন্ত গাড়ি থাকছে।’
টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের রকেট উন্নয়ন ও পরীক্ষণ কেন্দ্রে গাড়িটির উন্মোচনী আয়োজনের অংশ হিসেবে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মাস্ক বলেন, ‘উড়ন্ত গাড়ি আসলেই বাস্তব… এতে উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, থ্রাস্টার এবং পেছনের অংশে মূল থ্রাস্টার রয়েছে। ফলে এটি মূলত একটি রকেটের মতো উড়তে পারে, ঘুরপাক খেতে পারে এবং চোখধাঁধানো কসরত দেখাতে পারে।’
তিনি রসিকতা করে আরও বলেন, ‘আমার বলা উচিত এটি পুরোপুরি নিরাপত্তাবান্ধব কোনো গাড়ি নাও হতে পারে, তবে এটি বিনোদনের মাত্রাকে চূড়ায় নিয়ে যাবে।’
প্রদর্শনীতে মাস্ক ব্যাখ্যা করেন যে গাড়িটিতে সাকশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যার সাহায্যে এটি খাড়া র্যাম্প বেয়ে ওপরে উঠতে এবং উল্টো হয়ে ঝুলে থাকতে পারে। তবে সাধারণ পাবলিক সড়কে এমন প্রযুক্তির ব্যবহারের আইনি বৈধতা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
টেসলার আর্থিক আয়ের ক্ষেত্রে এই গাড়িটির গুরুত্বকে কিছুটা খাটো করে দেখে ২০২৩ সালে মাস্ক এটিকে ‘খুবই সামান্য একটি বিষয়’ বলে বর্ণনা করেছিলেন, যা বাণিজ্যিকভাবে বড় কোনো আর্থিক পরিবর্তন আনবে না। তবে গাড়িটির একটি বড় প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে।
আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মর্নিংস্টারের বিশ্লেষক সেথ গোল্ডস্টেইন বলেন, ‘অটোমোবাইল নির্মাতার সেরা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি প্রদর্শনের মতো কোনো হ্যালো কার বা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিলাসবহুল গাড়ি বর্তমানে টেসলার নেই। এই রোডস্টারই হবে টেসলার নতুন হ্যালো কার।’
অনুষ্ঠানে মাস্ক গাড়িটির সুনির্দিষ্ট বিক্রয়মূল্য ঘোষণা করেননি। তবে প্রায় এক দশক আগে টেসলা এই গাড়ির প্রাথমিক ভিত্তিমূল্য প্রায় ২ লাখ ডলার (দেড় লাখ পাউন্ড) উল্লেখ করেছিল। অনুষ্ঠানের পর টেসলার ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, গাড়িটির ‘পারফরম্যান্স’ সংস্করণের জন্য ৫০ হাজার ডলার এবং এক্সিলারেশন থ্রাস্টারসংবলিত সংস্করণের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার অগ্রিম জামানত দিতে হবে। এ ছাড়া ‘রকেট’ নামের আরেকটি বিশেষ সংস্করণের কথা জানানো হয়েছে, যা কেবল আমন্ত্রিতদের জন্য প্রযোজ্য এবং এটি পূর্ণাঙ্গ ফ্লাইট সিস্টেমসহ এক আসনের মডেল।
দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টারের এই আত্মপ্রকাশ এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মানুষের চালিত সাধারণ গাড়ির চেয়ে এআই-চালিত স্বচালিত প্রযুক্তি (সেলফ-ড্রাইভিং) এবং রোবোটিক্সের দিকে টেসলা নিজেদের মূল মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে ।


