Last Updated on 19 hours by zajira news
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ; যুক্তরাষ্ট্রের আইডাহোতে এক সামরিক ঘাঁটিতে এয়ার শো চলাকালে মাঝ আকাশে মুখোমুখি সংঘর্ষে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশলী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে সংঘর্ষের পর মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই বিমান দুটির চার ক্রু নিরাপদে বের হয়ে যেতে পেরেছেন।
রোববার (১৭ মে)আইডাহো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বোইজি থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত মাউন্টেইন হোম বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে এয়ার শো ‘গানফাইটার স্কাইস’ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে বলে মার্কিন এক বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে জানিয়েছে এনডিটিভি।
সংঘর্ষে জড়ানো বিমানগুলো ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের উইডবি দ্বীপে অবস্থিত ইলেকট্রনিক অ্যাটাক স্কোয়াড্রন ১২৯ ইউনিটের ইএ-১৮জি গ্রাউলার, জানিয়েছেন মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় বহরের নৌবিমান বাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার আমেলিয়া উমাইয়াম।
তিনি জানান, আকাশে প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার সময় দুই যুদ্ধবিমানের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। “দুই বিমানের চার ক্রু’ই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন,” বিবৃতিতে বলেছেন তিনি।
কেন এ সংঘর্ষ হল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনী এ তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। সামরিক বাহিনীর বিমান হওয়ায় বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার মতো এ তদন্তের খুঁটিনাটি জানানো হবে না।
বিমান ঘাঁটির কর্মকর্তারা বলেছেন, চার ক্রু-ই সুস্থ আছেন, তাদের অবস্থা স্থিতিশীল এবং বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মাটিতে থাকা কেউ আহত হননি। “সবাই নিরাপদ আছে এবং আমি মনে করি এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়,” বলেছেন এয়ার শো- আয়োজনে সহায়তাকারী সিলভার উইংস অব আইডাহোর বিপণন পরিচালক কিম সাইকস।
মাউন্টেইন হোম ঘাঁটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই তারা ঘাঁটিটি লকডাউন করে দেয় এবং প্রদর্শনীর বাকি অংশও বাতিল করা হয়। অনলাইনে আসা ভিডিওতে ‘একে অপরকে জড়িয়ে ধরা’ বিমান দুটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই আকাশে চারটি প্যারাস্যুট খুলে যাওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে।
“আমি কেবলই ভিডিও করছিলাম, ভেবেছিলাম ওগুলো আলাদা হয়ে যাবে, তারপর তো যেটা ঘটার ঘটেই গেল,” সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করা প্রত্যক্ষদর্শী শেন ওগডেন এমনটাই বলেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝ আকাশে এ ধরনের সংঘর্ষে সাধারণত ক্রু’রা বিমান থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগই পান না, সে হিসেবে চার ক্রু’ই যে নিরাপদে বের হতে পেরেছে তা সত্যিই ‘সৌভাগ্যের বিষয়’।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস বলেছে, দুর্ঘটনার সময় আকাশ ভালো ছিল, চারপাশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছিল; বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৪৭ কিলোমিটার পর্যন্ত।
সংঘর্ষের সময় বিমান দুটি একে অপরের সঙ্গে আটকে যাওয়ার কারণে ক্রু’রা বেরিয়ে আসতে পেরেছে বলে মনে করেন বিমান চলাচল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জেফ গুজেত্তি। “মনে হচ্ছে, পাইলটের ভুলেই এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এটিকে যান্ত্রিক গোলযোগজনিত দুর্ঘটনার মতো লাগছে না,” বলেছেন তিনি।


