Last Updated on 17 hours by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: কোন খাতের উপার্জনে আয়কর দিতে হবে, অনেকেরই সেই ধারনা নেই। সারা বছর কোন কোন খাত থেকে আয় করা হল, তা রিটার্ন ফরমে দেখিয়ে দিতে হয়। অনেক করদাতা মনে করেন, সব ধরনের আয় একসঙ্গে দেখালেই যথেষ্ট, কিন্তু বাস্তবে তা নয়।
২০২৩ সালের আয়কর আইন অনুসারে, ৭ ধরনের আয়কে করের আওতায় আনা হয়েছে। এই খাতগুলো থেকে আয় হলেই কর দিতে হয়। তবে এবার থেকে বার্ষিক চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ে কর নেই।
ওই ৭ আয়ের খাত কী কী, যার ভিত্তিতে করদাতার মোট আয় নির্ধারিত হয়।
১. চাকরি থেকে আয়
সরকারি, বেসরকারি বা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আপনি যে বেতন–ভাতা, বোনাস, ইনসেনটিভসহ সব ধরনের পারিশ্রমিক পান, তা চাকরির আয় হিসেবে বিবেচিত হবে।
২. ভাড়া থেকে আয়
শহরে বাড়িওয়ালাদের বাড়িভাড়া থেকে আয়ের বড় অংশ আসে। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান বা অন্য যেকোনো সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে বছরে যে আয় হয়, সেটা এই খাতে পড়বে।
৩. কৃষি থেকে আয়
এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে কৃষিকাজ করছেন। অনেকে খামার করছেন। সার্বিকভাবে কৃষিজমি, ফসল, ফল, সবজি, পশুপালন বা যেকোনো কৃষিকাজ থেকে অর্জিত আয় এই খাতে অন্তর্ভুক্ত।
৪. ব্যবসা থেকে আয়
ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসা বা পেশাগত কার্যক্রম (যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, পরামর্শক ইত্যাদি) থেকে প্রাপ্ত আয় এখানে দেখানো হয়।
৫. মূলধনি আয়
মুনাফা, ভাড়া, রয়্যালটি, সুদ বা অন্য সব মূলধনি সম্পদের ব্যবহারের বিনিময়ে অর্জিত আয় এই খাতে পড়ে।
৬. আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়
ব্যাংকের সুদ বা মুনাফা, লভ্যাংশ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, ট্রেজারি বন্ড বা সিকিউরিটিজ থেকে আয় এই অংশে উল্লেখ করতে হয়।
৭. অন্যান্য উৎসের আয়
যে আয় কোনো খাতে পড়ে না, সেসব আয় অন্যান্য উৎসের আয়ে দেখানো হয়।
প্রতিটি আয় খাতের কর নির্ধারণের ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম থাকতে পারে। এটি খেয়াল রাখতে হবে। যেমন কিছু ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে কিংবা বাড়তি করহার আরোপ হতে পারে। এ ছাড়া ভুল খাতে আয় দেখালে অতিরিক্ত কর, জরিমানা বা কর নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
তাই সঠিক খাত নির্ধারণ করে করের পরিকল্পনার পাশাপাশি ঝুঁকিমুক্ত রিটার্ন দিতে হবে। যেন আয়কর ফাইল নিরীক্ষায় পড়লে ঝামেলা না হয়।


