সময়ের জনমাধ্যম

টঙ্গীতে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মামলা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ

Last Updated on 4 hours by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা।

অন্যদিকে মাদ্রাসায় ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর ও টাকা-মুঠোফোন লুটের অভিযোগে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে যৌন নিপীড়নের মামলায় গ্রেপ্তার শিক্ষককে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গত বুধবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। শিশুটির বাবার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়।

শিশুটির পরিবার জানায়, ঘটনার পর সে মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা খুলে বলে। এরপর বুধবার দুপুরে স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করে। তাকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীদেরও মারধর করা হয়। এ সময় কার্যালয় ভাঙচুর করে ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হুমকিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।

হুমকির বিষয়ে ওসি বলেন, উভয় পক্ষই মৌখিকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।