Last Updated on 10 hours by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: রাজধানী ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছোড়া একাধিক গুলিতে নিহত ব্যক্তির আঙুলের ছাপের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তি হলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমনের শ্যালক অপর সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন। এক সময় ইমনের অপরাধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন টিটন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের এডিসি মো. শওকত আলী নিহত ব্যক্তির পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, আঙুলের ছাপের মাধ্যমে জানা গেছে নিহত ব্যক্তির নাম শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন।
মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেট বটতলার শহীদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেলে এসে হত্যাকারীরা রাস্তায় থাকা এক ব্যক্তিকে এলোপাতাড়ি গুলি করে।
গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি প্রথমে সড়কে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মোটরসাইকেলে থাকা একজন তার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে আবারও তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে সঙ্গীদের নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালে এমন কথাই বলেন সাংবাদিকদের।
ঘটনার পরপরই আশপাশের যুবকরা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এ নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে আসা হত্যাকারীদের স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান।
এদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী জড়িত আছে কিনা, পাশাপাশি অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহতের বড় বোন জামাই ইমনসহ তার লোকজন জড়িত আছে কিনা সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অলরেডি পুলিশের কয়েকটি টিম মাঠে কাজ করছে।
অন্যদিকে এলাকা সূত্রে জানা যায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের শ্যালক ছিলেন টিটন। পারিবারিক সম্পর্কের সূত্রে টিটনের বড় বোনকে বিয়ে করেছিলেন ইমন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইমন জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক সময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, জিগাতলাসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় দাপটের সঙ্গে চলাফেরা করতেন টিটন। ইমনের অপরাধ সাম্রাজ্যের অন্যতম প্রধান সেনাপতি ছিলেন টিটন। ইমনের পক্ষে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন টিটন।
সূত্রগুলো আরও জানায়, কারাগারে থাকা অবস্থায় ইমন ও টিটনের মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরু হয়। ধীরে ধীরে টিটনের প্রভাব কমে যায় এবং এলাকায় একক নিয়ন্ত্রণ নিতে শুরু করে ইমনের লোকজন। পরে গণঅভ্যুত্থানের পর কারাগার থেকে বের হলেও টিটন নিজ এলাকায় প্রবেশ করতে পারতেন না। ইমনের অনুসারীরাই তাকে এলাকায় ঢুকতে বাধা দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, দীর্ঘদিনের এই বিরোধের জের ধরেই টিটন হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। নিহত টিটনের বাসা রায়েরবাজারের সুলতানগঞ্জে ছিল।

