সময়ের জনমাধ্যম

মালয়েশিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

Last Updated on 2 hours by zajira news

সজিব হাসান, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে হাইকমিশনের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং হাইকমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। এ ছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নির্মিত ‘জুলাইয়ের চিঠি’ এবং ‘ছাদ আকাশের গল্প’ শীর্ষক দুটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা দেখে উপস্থিত প্রাবাসিরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।

পরে দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আহতসহ সব অংশগ্রহণকারীর অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হাইকমিশনার বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক যুগান্তকারী অধ্যায়। তিনি এই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণতন্ত্রকামী মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অর্জিত জাতীয় ঐক্য অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপি মালয়েশিয়া ইউনিটের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার বাদলুর রহমান খান, সহসভাপতি তালহা মাহমুদ, যুবদল মালয়েশিয়া ইউনিটের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল মালয়েশিয়া ইউনিটের সভাপতি এস এম রহমান তনু, জাসাস মালয়েশিয়া ইউনিটের আহ্বায়ক শেখ আসাদ আহমেদ মাসুম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কো-অর্ডিনেটর মো. ইউসুফ আলী, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি ফয়সাল শেখ, এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব আলম মো. রওশন, বাংলাদেশ কমিউনিটি প্রেস ক্লাব সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম রতন, সিবিএল মানি ট্রান্সফারের প্রধান নির্বাহী সাইদুর রহমান ফরাজী এবং শিক্ষার্থী জার্জিস আলম ও আদিবা আহমেদ।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তা ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে সর্বজনীন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এ সময় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, গৃহবধূ, নারী, শিশু, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ব্যবসায়ীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের অবদানের কথা তারা স্মরণ করেন।

আলোচনায় বক্তারা শহিদ আবু সাঈদ, শহিদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরাম, শহিদ মুগ্ধসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তারা বলেন, এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান তারা।

উপস্থিত ছিলেন, আব্দুল জলিল লিটন, ফজলুল করিম সোহরাব, মোয়াজ্জেম হোসেন নিপু, আনোয়ার হোসেন সেলিম, মোঃ জাকির হোসেন, হেলাল শিকদার, নূরে সিদ্দিকী সুমন, সুলতান বিন সিরাজ, আসাদুল্লাহ আল গালিব রাব্বী, আদিব আঞ্জম, মাহফুজুর রহমান সহ অনেকে।

আলোচনা শেষে সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহিদের রুহের মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা এবং বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।