Last Updated on 60 mins by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে গণমাধ্যমের সাথে সরাসরি মতবিনিময় করার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
‘ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ভারতে রয়েছেন।
তবে গত দুই বছরের মধ্যে ভার্চুয়ালি হলেও এই প্রথম তিনি সাংবাদিকদের সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ নিলেন এমন সময়ে যখন বাংলাদেশে পাঁচই অগাস্ট ঘিরে সরকারিভাবেই নানারকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে বলেছে, ”এই আয়োজন বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে-সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এমন একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে।”
এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী দিল্লির প্রেসক্লাবে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সরাসরি বক্তব্য দেন।
সেখানে তিনি আবারো জানান যে, তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাবেন। ডিসেম্বর নাগাদ তিনি ফিরে যাবেন বলে জানালেও কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাননি।
এর কিছু পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পাতায় রাত ১১টা নাগাদ একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ”এমন এক দিনে ভারতীয় মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশের মানুষ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে। এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননাকর।”
সেখানে আরো বলা হয়, ”জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে এ দেশের মানুষ দৃঢ় অঙ্গীকার করেছে যে, আমাদের জাতি আর কখনোই ফ্যাসিবাদের সেই অন্ধকার দিনে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই কোনো অনুগত বা আশ্রিত রাষ্ট্র হবে না। দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার মাফিয়া চক্রের কোনো স্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কখনোই হবে না।”
”সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে ভারতের সাথে একটি গঠনমূলক, পারস্পরিক সুবিধাজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ,” বলা হয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।
”কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের বারবার অনুরোধে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। উল্টো যেকোনো অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সাথে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া এ দেশের মানুষের অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সুসংহত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ক্ষতিকর.” বলা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
এর আগে মঙ্গলবার এই সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে সাংবাদিকরা আগেভাগে অভিমত জানতে চেয়েছিলেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে। তার কাছে প্রশ্ন ছিল, বুধবার যে সম্মেলনে শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যা নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর মধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, সেই বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী?
এর জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, ”যে অনুষ্ঠানের কথা বলা হচ্ছে, সেটি একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে। এর সাথে ভারত সরকারের কোনো রকম সংশ্লিষ্টতা নেই। সেখানে প্রকাশ করা কোনো মতামত বা বক্তব্য ভারত সরকার সমর্থন করে না, তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।”
তার আগের দিন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে বলেছিলেন, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেউ যাতে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।


