Last Updated on 28 seconds by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: নানারকম বাধ্যবাধকতা, আইনের বেড়াজালে করের আওতায় আনার চেষ্টা আর প্রণোদনায় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদ নেওয়ার সংখ্যা বাড়লেও কাঙ্খিত সাফল্য মিলছে না আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিলে।
বিদায়ী করবর্ষে সরকার আয়কর আদায় বাড়াতে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতমূলক করেছিল; একই সঙ্গে চার দফায় জরিমানা ছাড়া রিটার্ন জমার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পুরো করবর্ষ জুড়েই রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রেখেছিল। তাতেও করদাতাদের দিকে থেকে তেমন সাড়া মেলেনি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআরের তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ করবর্ষে সাড়ে ৪৯ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ও কোম্পানি রিটার্ন দাখিল করেছে, যেখানে টিআইএনধারী করদাতা রয়েছে এক কোটি ৩১ লাখ। শতাংশের নিরিখে যা কেবল ৩৮ শতাংশ।
শতাংশের বিচারে রিটার্ন জমা কম হলেও প্রতিবছর রিটার্ন ও টিআইএনধারী বাড়ায় এটিকে সাফল্য হিসেবে দেখছেন এনবিআরের কর জরিপ ও পরিদর্শন বিভাগের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, “আমাদের কিন্তু রিটার্ন কমছে না বরং প্রতিনিয়ত বাড়ছে। গত অর্থবছরেই শুধু আমাদের টিআইএনধারী বেড়েছে ১৩ লাখের বেশি। রিটার্নও বেড়েছে কয়েক লাখ।
“আস্তে আস্তে কিন্তু বাড়ছে। আমরা সাফল্য দেখছি। তবে আপনারা জানেন, এই সময়ে শত শত ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়েছে। অনেকে কর্মসংস্থান হারিয়েছে। ফলে যে হারে টিআইএনধারী বেড়েছে, সে হারে রিটার্ন জমা বাড়েনি।”
বিদায়ী করবর্ষে আইন অনুযায়ী একজন করদাতা স্বাভাবিক নিয়মে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করতে পারতেন। এর মধ্যে দাখিল করলে বাড়তি কর দিতে হয় না।
আইন অনুযায়ী, বিশেষ বিবেচনায় সরকার এক মাস করে সময় বাড়াতে পারে। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সময় বাড়ানোর প্রবণতা প্রতি করবর্ষেই দেখা যায়।
আগে এটি ডিসেম্বর বা জানুয়ারি পর্যন্ত হলেও বিদায়ী করবর্ষে এটি মার্চে গিয়ে পৌঁছায়।
কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর ওইবারই প্রথম ব্যক্তির রিটার্ন দাখিল অনলাইনে বাধ্যবাধকতা থাকায় ‘অতিরিক্ত ৯০ দিন পর্যন্ত সময়’ পাওয়ার সুযোগ দেয় এনবিআর।
বলা হয়, ৩১ মার্চের মধ্যে আবেদন করে বাড়তি এ ৯০ দিন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের সময় মিলবে; সে অনুযায়ী অনেকেই এ সুযোগ কাজে লাগান। অর্থাৎ, বিদায়ী করবর্ষে কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই অনেক করদাতা সারাবছর রিটার্ন দাখিল করতে পেরেছেন।
এ হিসাবে খুব বেশি রিটার্ন জমা না বাড়লেও অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে সাফল্য পেয়েছে এনবিআর। প্রায় ৪৭ লাখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা কেবল ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন।
আয়কর বাড়াতে ও রিটার্ন দাখিলে উৎসাহী করতে চলতি করবর্ষের জন্য নতুন বিধান করেছে এনবিআর। সেখানে প্রথম প্রান্তিকে রিটার্ন দাখিলে প্রণোদনারও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বিধান অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে বা চলতি করবর্ষের প্রথম প্রান্তিকের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা করের ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা) ছাড় পাবেন।
তবে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় মিলবে না। চলতি অর্থবছরের বাজেটের সময় অর্থ আইনে এ পরিবর্তন এনেছিল এনবিআর।
তৃতীয় প্রান্তিক, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলে ২ শতাংশ (সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা) অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে জরিমানা হিসেবে।
সবশেষ চতুর্থ প্রান্তিক বা ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে জরিমানা বেড়ে হবে করের ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ পাঁচ ৫ হাজার টাকা)। বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চালু হলে হুট করেই বেড়ে যায় টিআইএনধারীর সংখ্যা।
তবে তখন সরকার দেখতে পায়, টিআইএনধারী বাড়লেও বাড়ছে না রিটার্ন জমার সংখ্যা। এছাড়াও অনেক টিআইএনধারীর মৃত্যু হওয়ায় বা ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় তাদের রিটার্ন জমাও বন্ধ হয়ে পড়ে।
তখন সরকার বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করে, তাতে কিছুটা সাফল্য মেলে। এতে প্রতিবছর রিটার্ন জমার সংখ্যা বাড়লেও বড় অংশই করজালের বাইরে রয়ে গেছে।
এবছর সরকার বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ায় রিটার্ন খানিকটা বেশি বাড়ার আশা করছেন এনবিআরের সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, “আশা করি, এবছর অনেক বাড়বে। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এসেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সরকার বাজেটে নানান উদ্যোগ নিয়েছে। বহু প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে ব্যবসার জন্য, আবার কর দেওয়ার জন্য। সবদিক দিয়েই ভালো। “সব মিলিয়ে আশাকরি এবার অনেক বেশি রিটার্ন জমা পড়বে।”


