সময়ের জনমাধ্যম

গোলরক্ষকের নৈপুন্যে বেলজিয়ামকে রুখে দিল ইরান

Last Updated on 26 seconds by zajira news

স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও ম্যাচ জুড়ে আধিপত্য করল বেলজিয়াম। কিন্তু গোলমুখে কার্যকর হতে পারলেন না রোমেলু লুকাকুরা। দুর্দান্ত সব সেভ করলেন আলিরেজা বেইরানভান্দ। বেলজিয়ানদের রুখে দিয়ে আরেকটি মূল্যবান পয়েন্ট আদায় করে নিল ইরান।

ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে রোববার বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে অনেকটা সময় একজন কম নিয়ে খেলতে হয়েছে বেলজিয়ামকে।

চলতি আসরে দুটিসহ বিশ্বকাপে নিজেদের সবশেষ চার ম্যাচে জিততে ব্যর্থ হলো বেলজিয়াম (৩ ড্র, ১ হার)। মিশরের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ে এবারের অভিযান শুরু করে তারা। ইরানও এবার তাদের প্রথম দুই ম্যাচ ড্র করল। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়ে ২-২ সমতায় শেষ করেছিল তারা।

দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে আছে ইরান। সমান পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে বেলজিয়াম। এক ম্যাচ খেলা নিউ জিল্যান্ড ও মিশরের পয়েন্ট ১ করে।

এবার ইরানকে পয়েন্ট এনে দেওয়ার নায়ক বেইরানভান্দ। ৭০ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২৩ শট নিয়ে যে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে বেলজিয়াম, সবকটিই সেভ করেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

অথচ ম্যাচের শুরুতেই আঘাত পান বেইরানভান্দ! কেভিন ডে ব্রুইনের ক্রসে ছয় গজ বক্সে স্লাইড করতে যান বেলজিয়ামের রেকর্ড স্কোরার লুকাকু, বেইরানভান্দও এগিয়ে আসেন বল ধরতে, সজোরে তার বুকে লাগে লুকাকুর পা। খেলা বন্ধ থাকে কিছুক্ষণ। চিকিৎসা নিয়ে আবার খেলা চালিয়ে যান ৩৩ বছর বয়সী বেইরানভান্দ।

শুরু থেকে বল দখলে আধিপত্য করা বেলজিয়াম একাদশ মিনিটে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে। বক্সে লেয়ান্ড্রো ট্রসাডের শট রক্ষণে প্রতিহত হওয়ার পর, মাক্সিম ডি কাইপারের শট ঠেকান বেইরানভান্দ।

চতুর্দশ মিনিটে থিবো কোর্তোয়ার দৃঢ়তায় বেঁচে যায় বেলজিয়াম। পেনাল্টি স্পটের কাছ থেকে হোসেন কানানির জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন রেয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক। ২৫তম মিনিটে এহসান হাজিসাফির ফ্রি-কিক বক্সে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জালে পাঠান মেহদি তারেমি। উল্লাসে মাতে ইরান শিবির। কিন্তু ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।

বেলজিয়াম বারবার আক্রমণে উঠলেও, প্রতিপক্ষের রক্ষণে খেই হারিয়ে ফেলছিল তারা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে ডি কাইপারের ভলি ফিরিয়ে দেন বেইরানভান্দ। দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে আরেকবার বেলজিয়ামকে বাঁচান কোর্তোয়া। তারেমির জোরাল শট ঠেকিয়ে দেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

৬০তম মিনিটে বেলজিয়াম গোল পেয়েই যাচ্ছিল প্রায়। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে ডেভিন ডে ব্রুইনের চমৎকার কাট-ব্যাক ইরানের ডিফেন্ডার ঠেকিয়ে দেওয়ার পর, কাছ থেকে শট নেন ডি কাইপার। বেইরানভান্দ আগেই পড়ে গিয়েছিলেন মাটিতে, শুয়ে থাকা অবস্থাতেই এক হাতে বল ঠেকিয়ে দেন তিনি।

৬৬তম মিনিটে বড় এক ধাক্কা খায় বেলজিয়াম। মাঝমাঠের কাছ থেকে গোলরক্ষককে ব্যাক-পাস দেওয়ার চেষ্টায় নাতাঁ উঙ্গয় বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং তিনিই শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে পেছন থেকে টেনে ফেলে দেন তারেমিকে। সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট বাকি থাকতে আরেকটি দুর্দান্ত সেভ করেন রেইরানভান্দ। আবারও ডি কাইপারের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে আটকান তিনি। ‘ডেডলক’ও তাই ভাঙেনি।

শেষ রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার সকালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বেলজিয়াম, একই সময়ে মিশরের মুখোমুখি হবে ইরান। কখনও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি এশিয়ান দলটি। এবার সেই সম্ভাবনা বেশ ভালোভাবেই আছে তাদের।