সময়ের জনমাধ্যম

ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপারসহ ছয়জন বরখাস্ত

Last Updated on 1 hour by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: অসদাচরণ ও পলায়ন’ এর অভিযোগে ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

বাকি চার কর্মকর্তা হচ্ছেন- সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল, সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক উপ কমিশনার রাজীব দাস, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) দু্ই কর্মকর্তা সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

তাদের সবাই দীর্ঘদিন থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। কোনো ধরনের কারণ দর্শানো ছা্ড়া তাদের অনুপস্থিতি সরকারি চাকুরিবিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ ও পলায়ন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের বিষয়ে গুরুতর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বরখাস্তের আদেশে আসাদুজ্জামানের বিষয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ২৭ অগাস্ট তাকে পুলিশ একাডেমি সারদায় সংযুক্ত করা হলে ১৭ সেপ্টেম্বর তিনি যোগ দেন। ওই দিনই তিনি ২১ সেপ্টেম্বর পযর্ন্ত চার দিনের ছুটি নিয়ে চলে যান। কিন্তু এরপরে তিনি আর কাজে যোগ দেননি।

এটিইউ’র সাবেক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের বিষয়ে বলা হয়েছে এ ইউনিটে কর্মরত থাকাকালে তাকে বরিশাল রেঞ্জে বদলি করলে ২০২৪ সালে ২ ডিসেম্বর যোগ দেন। পরে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তিনি কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।

আরিফুর রহমান সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বরিশাল রেঞ্জে সংযুক্ত করার পর তিনি ৯ সেপ্টেম্বর যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

সুপার নিউমারি পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া রাজিব দাস সম্পর্কে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর সচিবালয় থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় তাকে। পরে ১২ অক্টোবর তিনি চিকিৎসার জন্য ২০ দিনের ছুটি নিয়ে থাইল্যান্ড যান। ছুটি শেষে ২ নভেম্বর যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও করেননি।

জায়েদুল আলম সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি এপিবিএন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করার পর ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রযেছেন।

পলাশ রঞ্জনের বিষয়ে বলা হয়েছে, তিনি সিলেট এপিবিএনে কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালের ১২ অগাস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এসব পুলিশ কর্মকর্তাদের সরকারি বিধি অনুযায়ি নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো উত্তর মেলেনি। ফলে তারা দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করেছেন।

এ কারণে প্রজ্ঞাপনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, “সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর ৩ (খ) ও ৩ (গ) অনুসারে যথাক্রমে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হওয়ায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী চাকুরি হতে বরখাস্তকরণ সূচক গুরুদণ্ড প্রদান করা হল।”