সময়ের জনমাধ্যম

‘সংঘর্ষ, লুটপাট ও ভবনে আগুন’ ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ফ্রান্স, গ্রেপ্তার ১২০০

Last Updated on 16 hours by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্কুলে নানা সংকট ও সরকারি সেবার মান খারাপ হওয়ার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোম্বর) দেশজুড়ে লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। এদিন রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।

ফরাসি সরকার বলেছে, গতকাল দেশজুড়ে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ মানুষ রাস্তায় নামে। এ সময় অন্তত ১ হাজার ২০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ফ্রান্সে শ্রমিকদের অধিকার ও দাবি আদায়ে কাজ করা সংগঠন সিজিটি ইউনিয়ন রয়টার্সকে বলেছে, এদিন প্রায় ৮ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছে বলে তাদের ধারণা।

প্যারিসে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ চলে। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। একপর্যায়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। কয়েকটি দোকানে লুটপাট হয় এবং অন্তত একটি রেস্তোরাঁ আগুনে পুড়ে যায়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, মুখঢাকা কিছু ব্যক্তি লুটপাটের চেষ্টা করেছেন। তাঁরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়েছেন। সরকারি ভবন ও সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়েছে। এসব অস্থিরতার জন্য ‘উগ্র বামপন্থীদের’ দায়ী করেছে ফ্রান্স সরকার।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেছেন, সহিংসতায় ১৫০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পুলিশকে ‘চরম মাত্রার সহিংসতার’ মুখোমুখি হতে হয়েছে। পূর্ব-মধ্যাঞ্চলের লিওঁ শহরে বিক্ষোভকারীরা একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।

গত মাসে প্যারিসের উত্তরের শহরতলির বিভিন্ন উচ্চবিদ্যালয়ে এ বিক্ষোভের শুরু হয়। শিক্ষকসংকট ও জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ধীরে ধীরে বৈষম্য, সরকারি ব্যয় ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।

প্যারিসের ১৯ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী লোলা বলেন, ‘আমরা লড়াই করছি। কারণ, জীবনযাত্রার খরচ অসহনীয় হয়ে উঠেছে, জ্বালানির দাম অনেক বেশি। সারা দেশে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিবাদ করতে এবং আরও শিক্ষক ও ভালো শিক্ষার পরিবেশ চাইতে গিয়ে সহিংস হামলা ও আঘাতের শিকার হচ্ছেন।’

গতকাল মধ্য প্যারিসে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিশেষ করে শঁজেলিজে ও আর্ক দ্য ত্রিয়ঁফের আশপাশে নিরাপত্তা ছিল বেশি। বিক্ষোভ মিছিল যেসব পথ দিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো থেকে এসব এলাকা বাদ রাখা হয়।

অনেক বিক্ষোভকারী উজ্জ্বল হলুদ রঙের নিরাপত্তা জ্যাকেট পরে সড়ক অবরোধ করেন। এতে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর আগের মেয়াদে বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তোলা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের স্মৃতি ফিরে আসে।

মার্সেইয়ের মেয়র জানিয়েছেন, সিটি হল ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর শহরটিতে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একজন কর্মী জানান, প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারী মিছিলের সম্মুখভাগে যাওয়ার সময় পুলিশবিরোধী স্লোগান দেন।

প্রেসিডেন্ট মাখোঁ গত শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর প্রেসিডেন্সির মেয়াদ এখন শেষ পর্যায়ে। এমন সময়ে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গন বিভক্ত এবং অর্থনীতি নিয়ে তাঁর সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

সরকারি ঋণ কমানোর ফ্রান্সের প্রচেষ্টা বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। ফলে সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।