Last Updated on 9 hours by zajira news
স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে হারের পর নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানার দারুণ বোলিংয়ের প্রশংসা করেছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার নিক কেলি। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, উইকেটের আচরণ ও রানার গতিই মূল পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের মধ্যে।
নাহিদ রানার বোলিং নিয়ে আলাদা করে কথা বলেন কেলি। তিনি আরও বলেন, ‘সে খুবই রোমাঞ্চকর একজন তরুণ বোলার।
দারুণ গতিতে বল করে এবং আজ উইকেটটাও তাকে সাহায্য করেছে। ১৪৫-১৪৮ কিলোমিটার গতিতে সুইং করাতে পারা সহজ নয়।’
ম্যাচে রানার বোলিংয়ের ধরন নিয়েও বিশ্লেষণ করেন এই কিউই ব্যাটার। তিনি মনে করেন, আগের ম্যাচের তুলনায় এবার রানা আরও বেশি স্টাম্পে আক্রমণ করেছেন এবং বাউন্স ও গতির ভিন্নতা কাজে লাগিয়েছেন।
কেলি বলেন, ‘সে বল হাতে আসার পর থেকেই প্রস্তুত থাকতে হয়। কোনো ‘ওয়ার্ম-আপ’ ডেলিভারি নেই। প্রথম বল থেকেই সে গতিতে আঘাত করেছে।’
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে মাঝের ওভারে গড়ে ওঠা দুটি জুটি ভেঙে দেন নাহিদ রানা, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে কেলি বলেন, ‘সে একজন উইকেট-টেকার। ছোট ছোট স্পেলে এসে দ্রুতগতিতে বল করে এবং ম্যাচে প্রভাব ফেলে। আজ সে সেটাই করেছে।’
২০০ রানের পুঁজি নিয়ে মাঠে নামা নিউজিল্যান্ড শুরুতে লড়াইয়ের আশা দেখলেও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি বলে মনে করেন কেলি। তার ভাষ্য, ‘আমরা সবসময়ই বিশ্বাস করি যে আমাদের দ্বারা সম্ভব। তবে বাস্তবতা হলো, ২৪০-২৫০ রান দরকার ছিল। বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেছে এবং আমাদের চাপে ফেলেছে।’
এমন গরমে দৌড়ে এসে বোলিং করবেন, তাই নাকি কল্পনা করতে পারেন না নিউজিল্যান্ডের হয়ে আজ সর্বোচ্চ ৮৩ রান করা নিক কেলি। সেখানেই কোটার পুরো ১০ ওভার এত জোরে বোলিং করার রহস্য কী?
নাহিদ বললেন তা–ও, ‘আমি আমার ফিটনেস নিয়ে অনুশীলনের বাইরেও অনেক কাজ করি। ট্রেনারের সঙ্গে কাজ করি, তাদের সঙ্গে কথা বলি—কীভাবে ফিটনেসটা আরও বাড়ানো যায়। যেন মাঠের মধ্যে অনুভব করি, বোলিং করেও ক্লান্ত হচ্ছি না। অফ (সিজনের) সময় জিমে বলেন, রানিংয়ে বলেন, নিজেকে মেইনটেইন বলেন (তা করি)।’
আগের ম্যাচটাই নাহিদের ভালো যায়নি, ১০ ওভারে খরচ করেছিলেন ৬৫ রান। অথচ আজ তিনি ৫ উইকেট পেয়েছেন ৩২ রান দিয়ে। প্রথম ৫ ওভারে তো দিয়েছিলেন মাত্র ১০ রান!
রান নাকি উইকেট—কোনটায় মনোযোগ থাকে নাহিদের? তাঁর উত্তর, ‘পরিস্থিতির চাওয়া অনুযায়ী। ধরুন, আমার কাছে যদি মনে হয় দলে অবদান রাখা যাবে কিংবা এমন পরিস্থিতি যদি থাকে উইকেট নিতে হবে; আমি মনে করি, ওই পরিস্থিতি মেনে বোলিং করা উচিত।’
সঙ্গে নাহিদের থাকে উন্নতির তাড়নাও, ‘আমি সব সময় একটা জিনিসই চেষ্টা করি আগের ম্যাচে যে ভুলটা করেছি, পরের ম্যাচে একই ভুল করব না। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আমি চেষ্টা করব সামনের ম্যাচে ভুল যত কম করে দলকে সাহায্য করা যায়।’
গত কয়েক ম্যাচে নাহিদের উন্নতির একটা কারণ ছিল ব্যাটসম্যানদের চমকে দিতে পারা। আগের বলটা ফুল লেন্থে করলেই পরেরটা তিনি প্রায় ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের গতিতে বাউন্সার মেরেছেন। নাহিদ বলছেন তা–ও নাকি করেন পরিস্থিতির দাবি মেনেই, ‘এ রকম না যে একটা জায়গাতে বোলিং করেছি, যখন যেটা দরকার, সেই অনুযায়ী বোলিং করেছি।’


