Last Updated on 2 hours by zajira news
মালয়েশিয়া প্রতিনিধি, জাজিরা নিউজ: মালয়েশিয়ায় ৪০ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের বেতন বাবদ প্রায় ৪১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক বাংলাদেশি প্রবাসীর বিরুদ্ধে।
ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় পুলিশ রিপোর্ট, বাংলাদেশে মামলা এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা অর্থ উদ্ধার ও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ আব্দুল খালেক (৪৩) পাসপোর্ট নাম্বার (EH0595136) বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার কাটাবাড়িয়া মধ্যপাড়ার বাসিন্দা।
অভিযোগকারী মো. আবুল কালাম (৩৩) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বস্তল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ায় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কন্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবু্ল কালাম ও আব্দুল খালেক একই প্রতিষ্ঠানে কন্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। শ্রমিকদের বেতন সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত লকারের চাবি তাদের দুজনের কাছেই ছিল। পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য ব্যয় পরিশোধের জন্য ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৫ রিঙ্গিত তাদের কাছে হস্তান্তর করেন, যা লকারে সংরক্ষণ করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জুন ২০২৬ প্রতিষ্ঠানের মালিকের সঙ্গে আবুল কালাম কাজের সাইট পরিদর্শনে যাওয়ার সুযোগে আব্দুল খালেক লকারে থাকা পুরো অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান। পরে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট থানায় পুলিশ রিপোর্ট করা হলে তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল খালেক মালয়েশিয়া ত্যাগ করে বাংলাদেশে চলে গেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২০ জুন তার ভাই আব্দুল খালেকের বগুড়ার বাড়িতে গিয়ে আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত চাইলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
আবুল কালাম জানান, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের কারণে বর্তমানে ৪০ জন বাংলাদেশি শ্রমিক তাদের ন্যায্য বেতন থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এতে তাদের আবাসন ব্যয়, খাদ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ নির্বাহে চরম সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় তিনি নিজেও আর্থিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
তিনি আরো জানান, ঘটনার পর মালয়েশিয়ায় পুলিশ রিপোর্ট, বাংলাদেশে মামলা এবং কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, কয়েক মাসের কষ্টার্জিত বেতন আত্মসাতের কারণে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই বাসাভাড়া, খাবার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এ সময় শ্রমিকরা আরো বলেন, ‘আমরা অনেক কষ্টে আছি। কয়েক মাসের কষ্টার্জিত বেতন খালেক নিয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা দ্রুত ফেরত চাই। একই সঙ্গে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিক, মালয়েশিয়ার এক চীনা নাগরিক, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য আমি টাকাগুলো আব্দুল খালেকের কাছে দিয়েছিলাম। পরে সে পুরো অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি চাই, শ্রমিকরা যেন দ্রুত তাদের প্রাপ্য অর্থ ফিরে পায়।’
এদিকে ভুক্তভোগী আবুল কালাম প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতি দ্রুত আইনগত ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ, আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধার, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


