Last Updated on 2 hours by zajira news
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দেশটির অর্থনীতিতে বড় আবদান রাখছেন, তালিকায় শীর্ষ তিন দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।
রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা বারনামার বরাতে দ্য স্ট্রেইটস টাইমসসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে অধ্যয়নরত প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার বিদেশি শিক্ষার্থী তাদের টিউশন ফি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বাবদ মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে বার্ষিক প্রায় ২০ বিলিয়ন রিঙ্গিত যোগ করছেন।
সম্প্রতি তেরেঙ্গানু প্রদেশের পানতাই তেলুক কেতাপাং-এ অনুষ্ঠিত ‘মালয়েশিয়ান কালচারাল ডিসকভারি কমিউনিটি ইমার্সন’ প্রোগ্রামে এসব তথ্য জানান দেশটির ‘এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেস’ (ইএমজিএস)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নোভি তাজউদ্দিন।
ইএমজিএস-এর পরিচালিত সমীক্ষার তথ্য তুলে ধরে নোভি জানান, মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার রিঙ্গিত ব্যয় করেন। এই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর উপস্থিতির সুফল কেবল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোই পাচ্ছে না, বরং স্থানীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি জানান, তেরেঙ্গানুর ‘ইউনিভার্সিটি সুলতান জাইনাল আবিদিন (ইউনিসজা)’ এবং ‘ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেঙ্গানু (ইউএমটি)’-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদেশি শিক্ষার্থীদের বদৌলতে আশপাশের স্থানীয় খাদ্য ও সেবা খাতের ব্যবসাসহ সার্বিক অর্থনীতি চাঙ্গা থাকছে।
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থী পাঠানো প্রধান পাঁচটি দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান। মোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সিংহভাগই স্নাতকোত্তর পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়ছেন।
এ বিষয়ে ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন মালয়েশিয়া’ (বিএসওএম)-এর সভাপতি আসাদুল্লাহ আল গালিব রাব্বি বলেন, “প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান এবং বর্তমানে দেশটিতে ৩০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। সংখ্যার দিন থেকে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। তারা মূলত তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, বিজনেস ফ্যাকাল্টি এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোতে পড়ালেখায় সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”
আগে উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের শীর্ষ পছন্দের তালিকায় কেবল যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো চারটি দেশ থাকলেও দৃশ্যপট এখন বদলে গেছে। মালয়েশিয়া বিশ্বসেরা ১৪টি শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা গন্তব্যের তালিকায় স্থান করে নিয়ে বৈশ্বিক শিক্ষাজগতে নতুন প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
ইএমজিএস প্রধান জানান, গত তিন বছরে দেশটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১০-বছর মেয়াদি ‘মালয়েশিয়া হায়ার এডুকেশন ব্লুপ্রিন্ট’ অনুযায়ী ২০৩৫ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষার প্রচারণায় বিশ্বের প্রায় সাত থেকে আটটি প্রধান অঞ্চলে নানা সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ।


