Last Updated on 3 hours by zajira news
নিজস্ব প্রতিবেদক, জাজিরা নিউজ: মেট্রোরেলে যাতায়াতের সময় অসুস্থ হয়ে বাবার মৃত্যুর ঘটনায় সহযাত্রীদের মানবিক ভূমিকা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য নাকিবুর রহমান।
অসুস্থ বোধ করায় বসার জন্য কয়েকবার অনুরোধ করেও আসন পাননি তার বাবা নজীবুর রহমান। পরে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মেট্রোরেলের ভেতরেই পড়ে যান তিনি। এরপর তার মৃত্যু হয়।
গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে শাহবাগ থেকে উত্তরাগামী মেট্রোরেলে শেওড়াপাড়া ও কাজীপাড়া স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নাকিবুর রহমান। তার বাবা নজীবুর রহমান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে বাবাকে হারানোর বেদনার কথা তুলে ধরেন নাকিবুর।
তিনি বলেন, ‘ছেলে হিসেবে আজীবন একটাই আক্ষেপ থাকবে, কেউ যদি আব্বুকে বসতে দিতেন। তাহলে হয়তো বাবা এভাবে নিচে না পড়ে, কারও কোলে মাথা রেখে মারা যেতে পারতেন।’ নাকিবুর রহমান এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য হওয়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
তিনি জানান, ২৪ অক্টোবর সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তার বাবা। অনুষ্ঠান শেষে বেলা তিনটার দিকে শাহবাগ মেট্রোস্টেশন থেকে উত্তরার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। বাবার মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে ওই সহকর্মীর কাছ থেকেই জানতে পারেন নাকিবুর।
নাকিবুরের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের ছুটি শেষ হওয়ায় সেদিন মেট্রোরেলে যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় ছিল। বসার জায়গা না পেয়ে তার বাবা ও সহকর্মী দুজনই হাতল ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যাত্রীদের ঠেলাঠেলিতে একপর্যায়ে তারা পরস্পর থেকে দূরে সরে যান।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ট্রেনটি শেওড়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন নজীবুর রহমান। এ সময় বসে থাকা যাত্রীদের কাছে কয়েকবার আসন চেয়েছিলেন তিনি। তবে কেউ তাকে বসার সুযোগ দেননি বলে জানান নাকিবুর। এর এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন তার বাবা।
ঘটনার পর আশপাশে থাকা যাত্রীরা তাকে ধরে তোলার চেষ্টা করেন। হইচই শুনে সেখানে আসেন তার সহকর্মীও। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের সহায়তায় পরীক্ষা করে নজীবুর রহমানকে মৃত বলে বুঝতে পারেন তারা। নাকিবুরের ধারণা, মেট্রোরেলের ভেতরে পড়ে যাওয়ার সময়ই তার বাবার মৃত্যু হয়েছিল।
নাকিবুর জানান, তার বাবা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। মেট্রোরেলের উত্তরা উত্তর স্টেশনে তাকে নামানোর পর আনসার সদস্যদের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে উত্তরার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বাবার সহকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে হাসপাতালে পৌঁছান নাকিবুর। সেখানে চিকিৎসকেরা বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নজীবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবার মৃত্যুর সময় পরিবারের কোনো সদস্য তার পাশে থাকতে পারেননি। নাকিবুর জানান, তার মা ও ছোট ভাই ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। বিমানের টিকিটসংক্রান্ত জটিলতায় তারা নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারেননি। তার বোন পরিবার নিয়ে নিউজিল্যান্ডে থাকেন। আরেক ভাইও সেখানে পড়াশোনা করেন। তারাও বাবার মৃত্যুর পর দেশে আসতে পারেননি।
পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতেই বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে নজীবুর রহমানকে দাফন করা হয়। বাবাকে হারানোর ঘটনায় কাউকে সরাসরি দায়ী করতে চান না নাকিবুর। তবে বয়স্ক মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
নাকিবুর বলেন, ‘আমি কাউকে দোষারোপ করছি না। যে কেউ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। বয়স্ক মানুষের প্রতি আমাদের সবার সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। তাদের সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন।’

