সময়ের জনমাধ্যম

যুক্তরাষ্ট্রে পৃথক বন্দুক হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী ও ২ শিশুসহ ১৪ জন নিহত

Last Updated on 18 hours by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক দুটি বন্দুক হামলায় অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দুই শিশুসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোম্বর) সন্ধ্যায় জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডগলাস শহরের একটি বাড়িতে গুলিতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। একই সময়ে পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি শহরে আরেকটি বন্দুক হামলায় প্রাণ হারান নয়জন। দুই ঘটনায়ই ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্কাই নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্জিয়ার ডগলাস শহরে একটি বাড়িতে গুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। সেখানে গুলিবিদ্ধ পাঁচজনকে উদ্ধার করা হলেও তাঁদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনায় হামলার কারণ কিংবা সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার এরি শহরের বন্দুক হামলায় নিহত নয়জনের মধ্যে রয়েছেন দুই শিশু ও এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীসহ সংশ্লিষ্ট নয়জনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর নতুন করে গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া যায়নি।

এরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ জানিয়েছেন, হামলার উদ্দেশে এখনও জানা যায়নি। ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাণহানির এই ঘটনা শহরটির জন্য বড় বিপর্যয়।

তিনি বলেন, সন্দেহভাজন হামলাকারীর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো হুমকি নেই।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির শব্দ শনাক্ত করতে ব্যবহৃত ‘শটস্পটার’ প্রযুক্তির মাধ্যমে পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মাইক্রোফোনের নেটওয়ার্কনির্ভর এই প্রযুক্তি গুলির শব্দ শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংকেত দেয়। তবে প্রযুক্তিটির ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, এরি শহরের মেয়র ডেভলিনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। ভয়াবহ এই গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনি তার প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়। পরপর দুটি হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক সহিংসতা ও জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সামনে এসেছে।

দেশটিতে একাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলে অনেক ক্ষেত্রে তাকে ‘ম্যাস শুটিং’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে এ ধরনের ঘটনার সর্বজনস্বীকৃত কোনো একক সংজ্ঞা নেই। সূত্র: স্কাই নিউজ