সময়ের জনমাধ্যম

ঈদের তৃতীয় দিনেও পোস্তায় চামড়া বিক্রি কম দামে, মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

Last Updated on 2 hours by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ঈদুল আজহার তৃতীয় দিনেও রাজধানীর লালবাগের পোস্তা এলাকায় কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া কম দামে কেনাবেচা হচ্ছে।

সরকার নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে বাজারদরের বড় ব্যবধান থাকায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ী ও চামড়া সংগ্রহকারীরা। তাদের অভিযোগ, চামড়া সংগ্রহ, লবণ দেওয়া ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে দাম মিলছে না।

শনিবার (৩০ মে) দুপুর থেকে পুরান ঢাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া পোস্তায় আসতে শুরু করে।

ছোট ট্রাক, ভ্যান ও অন্যান্য যানবাহনে করে মৌসুমি ব্যবসায়ী, ফড়িয়া এবং বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা চামড়া নিয়ে আসেন। আড়তদাররা সেগুলো বাছাই করে কিনে গুদামে সংরক্ষণ করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদের প্রথম দুই দিনের তুলনায় তৃতীয় দিনে চামড়ার সরবরাহ কম। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, এদিন কোরবানি তুলনামূলক কম হওয়ায় বাজারেও চামড়া কম এসেছে।

তবে আসা চামড়ার মধ্যে ছোট আকারের গরুর চামড়া ৪০০ টাকা, মাঝারি চামড়া ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং বড় চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার কাঁচা চামড়ার দাম আরও কম। অন্যদিকে লবণ, রাসায়নিক, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও চাপে রয়েছেন।

পোস্তার এসএম সালমা ট্যানার্সের মালিক সাঈদ হাসান গনমাধ্যমকে বলেন, ঈদের তৃতীয় দিনে সাধারণত চামড়া কম আসে। তবে এবার ভালো মানের চামড়া পাওয়া যাচ্ছে। গত দুই দিনের তুলনায় আজ দামও কিছুটা ভালো। ছোট চামড়া ৪০০ টাকা, মাঝারি ৬০০ টাকা এবং বড় চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনেছি। তিনি জানান, গত তিন দিনে প্রায় দুই হাজার পিস চামড়া সংগ্রহ করেছেন। তাঁর মতে, প্রতিটি চামড়া সংরক্ষণে অতিরিক্ত প্রায় ৪০০ টাকা খরচ হয়। ফলে ব্যবসা পরিচালনা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে পড়েছে।

হেমায়েতপুরের একটি ট্যানারির জন্য চামড়া কিনছেন পারভেজ হোসাইন এক গনমাধ্যমকে বলেন, লবণ, রাসায়নিক, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চামড়ার দাম কমেছে। ঈদের দিন থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার চামড়া কিনেছি। দিনের বেলায় যে চামড়া আসে, সেগুলোর মান ভালো থাকে। সন্ধ্যার পর দূরের এলাকার চামড়া এলে অনেক সময় মান কমে যায়।

তবে বিক্রেতাদের অভিযোগ ভিন্ন। ডেমরা থেকে ৪০টি লবণযুক্ত চামড়া নিয়ে আসা আরিফুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, চামড়া কিনেছি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। এরপর লবণ দিয়েছি, পরিবহন খরচ হয়েছে। এখন গড়ে ৬০০ টাকার বেশি দাম বলছে না। এভাবে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে।

মীরহাজীবাগ থেকে ১৫টি চামড়া নিয়ে আসা শরিফুল খানও একই অভিযোগ করেন। তিনি গনমাধ্যমকে বলেন, সরকার এক দাম বলে, বাজারে আরেক দাম। ৬০০ টাকার বেশি কেউ বলতে চায় না। সবাই একই দর বলছে। এতে মনে হচ্ছে বাজারে এক ধরনের সমন্বিত মূল্য নির্ধারণ চলছে।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুরুল হাসান গনমাধ্যমকে বলেন, সরকার যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তা লবণযুক্ত চামড়ার জন্য। কিন্তু কাঁচা চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহনে এখন অনেক বেশি ব্যয় হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, একটি চামড়া সংগ্রহ থেকে সংরক্ষণ পর্যন্ত ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে। পাশাপাশি অনেক চামড়া কাটা-ছেঁড়া বা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলোর দাম কমে যায়।

চামড়া ব্যবসায়ীদের একটি অংশের দাবি, ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির সুযোগ না থাকায় বাজারে প্রতিযোগিতা কমেছে এবং এর প্রভাব পড়ছে দামে। কালাম ব্রাদার্স ট্যানারির মালিক হাজী মো. কামাল বাংলানিউজকে বলেন, ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি থাকলে বাজারে দরপতন এতটা হতো না। আগে বিদেশি ক্রেতারা সরাসরি কিনতেন। এখন সেই সুযোগ নেই।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চামড়া শিল্পকে টেকসই করতে হলে প্রান্তিক বিক্রেতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় প্রতিবছর কোরবানির মৌসুমে একই ধরনের অসন্তোষ ও অস্থিরতা দেখা দেবে।

এদিকে গতকাল বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, কোরবানির চামড়ার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের চামড়া শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও রপ্তানিমুখী খাতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। জুলাইয়ের মধ্যে চামড়া খাতের উন্নয়ন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। সম্ভাব্য চাহিদা ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। অন্যদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বলছে, দেশে বছরে প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া উৎপাদিত হয়, যার ৬০ শতাংশের বেশি আসে কোরবানির মৌসুমে। এর মধ্যে গরুর চামড়াই প্রায় ৬৫ শতাংশ।