সময়ের জনমাধ্যম

কুয়ালামপুরের চৌকিটে সমন্বিত অভিযানে, বাংলাদেশী সহ আটক ১৮১

Last Updated on 14 mins by zajira news

সজিব হাসান, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের চৌকিট এলাকায় সমন্বিত অভিযানে ৫১২ জন বিদেশির কাগজপত্র পরীক্ষা করে অতিরিক্ত অবস্থান, বৈধ নথি না থাকা ও পাসের অপব্যবহারের অভিযোগে ১৮১ জনকে আটক করেছে অভিবাসন বিভাগ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে জালান রাজা বোত, অর্থাৎ চৌকিট বাজারে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে ১৮১ বিদেশি নাগরিককে বিভিন্ন অভিবাসন অপরাধে আটক করেছে অভিবাসন বিভাগ।

অভিবাসন বিভাগের উপমহাপরিচালক (অপারেশনস) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি জানান, সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে অভিযান শুরু হয়। এ সময় ৫১২ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “বিভিন্ন অভিবাসন অপরাধে মোট ১৮১ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা, নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করা এবং পাসের অপব্যবহার অন্তর্ভুক্ত।”

তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪৭ জন ইন্দোনেশীয়, ২০ জন বাংলাদেশি, পাঁচজন নেপালি, তিনজন ভারতীয়, একজন পাকিস্তানি এবং বিভিন্ন দেশের আরও পাঁচজন রয়েছেন। তাঁদের বয়স ১০ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সবাইকে বুকিত জলিল অভিবাসন ডিপোতে নেওয়া হয়েছে।

এই সমন্বিত অভিযানে কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল), দেশীয় বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয় (কেপিডিএন), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, মালয়েশিয়ার ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ এবং রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশও অংশ নেয়।

লোকমান এফেন্দি বলেন, রাজা বোত বাজার দেশের ২২৪টি নজরদারির আওতাধীন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের একটি। কর্তৃপক্ষ এসব এলাকায় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনার উপযুক্ত সময় নির্ধারণের পর এ বছর ওই স্থানে এটি দ্বিতীয় অভিযান। অভিবাসন আইন লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে অভিযান চলবে এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো এলাকাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের ব্যবস্থা শুধু বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আইন ভঙ্গকারী নিয়োগকর্তা ও স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। “নিয়োগকর্তাদের অভিবাসন আইনের অধীনে কোনো অপরাধ না করার জন্য আমরা সতর্ক করছি। এই আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

“দেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের আশ্রয় দেওয়া অপরাধ। তাঁদের সহায়তার চেষ্টা করলে স্থানীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে,” বলেন তিনি।

লোকমান এফেন্দি বলেন, মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। অভিবাসন অভিযান কেবল আইন লঙ্ঘনকারীদের লক্ষ্য করেই পরিচালিত হচ্ছে।