সময়ের জনমাধ্যম

পাকিস্তানে সাইবার প্রতারণার অভিযোগে ১৩০ মালয়েশীয় নাগরিক আটক

ছবি: এ আই সম্পাদিত

Last Updated on 49 mins by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে একটি সন্দেহভাজন সাইবার প্রতারণা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে ১৩০ জন মালয়েশীয় নাগরিককে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘হারিয়ান মেট্রো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির পুলিশ মহাপরিদর্শক খালিদ ইসমাইল জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে মালয়েশীয় পুলিশ।

তিনি জানান, বুকিত আমানের বাণিজ্যিক অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিসিআইডি) এ ঘটনায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য মালয়েশীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের পাকিস্তানে পাঠানো হতে পারে।

খালিদ ইসমাইল বলেন, এখন পর্যন্ত ১৩০ জন মালয়েশীয় নাগরিককে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের বৈধ ভিসা থাকলেও অন্যরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও পাকিস্তানে অবস্থান করছিলেন।

আটক ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও মালয়েশীয় পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি। তবে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তাঁরা সবাই মালয়েশীয় পাসপোর্টধারী এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘প্রো-পাকিস্তানি’ বুধবার জানায়, দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি রাওয়ালপিন্ডির একটি কল সেন্টারে অভিযান চালিয়েছে। কেন্দ্রটি মালয়েশীয় নাগরিকদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালাত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা প্রথমে ব্যাংকের গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি পরিচয়ে ভুক্তভোগীদের ফোন করতেন। তাঁদের ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়ে পরে কলটি এমন ব্যক্তিদের কাছে স্থানান্তর করা হতো, যারা নিজেদের মালয়েশীয় পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

প্রতারণার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াতে চক্রের কয়েকজন সদস্য ভিডিও কলে পুলিশের পোশাক পরতেন এবং পেছনে অফিসের মতো পরিবেশ তৈরি করতেন। এতে ভুক্তভোগীরা তাঁদের প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বলে মনে করতেন।

এরপর মানি লন্ডারিংসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের অর্থ স্থানান্তরে বাধ্য করা হতো। প্রতারণার অর্থ প্রথমে ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হতো। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হতো।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় অবস্থানরত এক মালয়েশীয় নাগরিক চক্রটির কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। পাকিস্তানে থাকা সুপারভাইজার ও কল সেন্টার ব্যবস্থাপকেরা তাঁকে সহযোগিতা করতেন।