Last Updated on 5 mins by zajira news
ধর্ম ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: মানুষ ও জিন জাতিকে মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যেই সৃষ্টি করেছেন। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর স্মরণে কাটানো এবং অযথা সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। দৈনন্দিন কাজের ফাঁকেও জিকিরের মাধ্যমে মহান আল্লাহকে স্মরণ করা যায়।
জিকিরের অর্থ আল্লাহকে স্মরণ করা। ইসলামে এটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। অন্যান্য ইবাদতের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যও মহান আল্লাহর স্মরণ। দিনের নির্দিষ্ট কোনো সময়ের অপেক্ষা না করেই কিছু জিকির করা যায়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো—
১. বেশি বেশি ইস্তিগফার করা
দিনের যেকোনো সময় ইস্তিগফার বা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়। ইস্তিগফারের মাধ্যমে বান্দা নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায় এবং মহান আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করে।
ইসলামি শিক্ষায় ইস্তিগফারের সঙ্গে রিজিকে বরকত, অভাব দূর হওয়া এবং সন্তান-সন্ততির মতো নেয়ামত লাভের সুসংবাদ উল্লেখ রয়েছে। পবিত্র কোরআনেও মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও বেশি বেশি ইস্তিগফার করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর রহমত ও অনুগ্রহ লাভের প্রত্যাশা করতে পারে।
মহান আল্লাহ বলেন,
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّاراً*يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَاراً*وَيُمْدِدْكُمْ بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَيَجْعَلْ لَكُمْ جَنَّاتٍ وَيَجْعَلْ لَكُمْ أَنْهَاراً
অতঃপর বলেছি-– তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন। তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্যে উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী-নালা প্রবাহিত করবেন। (সুরা নুহ, আয়াত : ১০-১২)
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বিবরণে আছে রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি লাগাতার তওবা-ইস্তিগফার করবে; মহান আল্লাহ সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন; সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ১,৫১৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩,৮১৯; মুস্তাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৯১, হাদিস: ৭,৬৭৭)
ইস্তিগফারের বাক্য
أَستَغْفِرُ اللهَ উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লাহ। অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
أَسْتَغْفِرُ اللهَ وَأَتُوْبُ إِلَيْهِ উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।‘ অর্থ : আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তার দিকেই ফিরে আসছি।
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ উচ্চারণ : আস্তাগফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলায়হি।
অর্থ : আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তার কাছেই (তাওবাহ করে) ফিরে আসি।
নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করা
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ দরুদ পাঠ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন,
اِنَّ اللّٰهَ وَ مَلٰٓئِکَتَهٗ یُصَلُّوۡنَ عَلَی النَّبِیِّ ؕ یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا صَلُّوۡا عَلَیۡهِ وَ سَلِّمُوۡا تَسۡلِیۡمًا ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ পাঠান, হে ঈমানদার ব্যক্তিরা, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পাঠাতে থাকো এবং উত্তম অভিবাদন (সালাম) পেশ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)
আল্লাহ তাআলার এই নির্দেশ একদিকে যেমন আল্লাহর কাছে তার রাসুলের মর্যাদার প্রমাণ অন্যদিকে মুমিন বান্দার রহমত, বরকত ও অবারিত কল্যাণ লাভের অন্যতম উপায়।
হজরত উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন, একবার রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর জিকিরের খুব তাকিদ করলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি আপনার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে থাকি। আমি আমার দোয়ার কতভাগ আপনার জন্য নির্ধারণ করব? তিনি বললেন, তোমার যে পরিমাণ ইচ্ছা। আমি বললাম, চার ভাগের এক ভাগ? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। তবে বেশি করলে আরও ভালো। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। তবে বেশি করলে আরও ভালো। আমি বললাম, তাহলে তিন ভাগের দুই ভাগ? তিনি বললেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা হয়। তবে বেশি করলে আরও ভালো। আমি বললাম, তাহলে কি আমার দোয়ার পুরোটাই হবে আপনার প্রতি দরুদ? তিনি বললেন, তবে তো তোমার উদ্দেশ্য অর্জন হবে, তোমার গুনাহ মাফ করা হবে।’ (তিরমিজি: ২/৭২)
সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহর জিকির করা
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গাছের একটি ডাল ধরে ঝাঁকি দিলেন, কোনো পাতা পড়ল না। তিনি আবার ঝাঁকি দিলেন; এবারও কোনো পাতা পড়ল না। তবে তৃতীয়বার ঝাঁকি দেয়ার পর অনেক পাতা ঝরল। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘নিশ্চয় সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা-ইলা-হা ইল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলা বান্দার গুনাহ ঝরিয়ে দেয়, যেমন (শীতকালে) গাছ তার পাতা ঝরায়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৫৩৪)
জিকিরগুলো হলো:
এক. سُبْحَانَ اللَّهِ : সুবহানাল্লাহ : আর আল্লাহ তাআলা অতি পবিত্র।
দুই. اَلْحَمْدَ لِلَّهِ : আলহামদুলিল্লাহ : সব প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য।
তিন. لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু : আর আল্লাহ তাআলা ছাড়া সত্য কোনো মাবুদ নেই।
চার. وَاللَّهُ أَكْبَرُ : ওয়াল্লাহু আকবার : এবং তিনি অতি মহান।


