সময়ের জনমাধ্যম

প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য গল্প লিখে শেষ ষোলোতে বেলজিয়াম

Last Updated on 4 mins by zajira news

স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২–এ ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও সেনেগালের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয় পেয়েছে বেলজিয়াম।

ইউরোপের দলটি একসময় ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে সমতায় ফিরে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে ।

অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে যখন টাইব্রেকারের দিকে গড়াচ্ছিল ম্যাচ তখনই ১২০ মিনিটের মাথায় বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমান্সকে ডি বক্সে ফাউল করে বসেন সেনেগালের লামিনে কামারা। ভিএআর দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।ম্যাচের ১২২ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে শেষ ষোলোয় পৌঁছে দেন টিলেমান্স।

এর আগে সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচের বেশিরভাগ সময় আধিপত্য ছিল সেনেগালের। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা শেষ হয়েছিল ২-২ সমতায়। এরপর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অনেকে মনে করেছিল, ম্যাচ ট্রাইবেকার গড়াবে। অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মিনিটে বেলজিয়াম পেনাল্টির আবেদন করে। ডোডি লুকেবাকিওর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলেও আক্রমণের সময় ইউরি টিলেমান্সকে ফাউল করা হয়েছে বলে দাবি করেন বেলজিয়ান খেলোয়াড়রা।

রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে যেতে বললেও পরে ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) সহায়তায় রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত বদলান। রিপ্লেতে দেখা যায়, লামিনে কামারা বল স্পর্শ না করে টিলেমান্সকে ফাউল করেছিলেন। এরপরই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। ১২৫তম মিনিটে স্পট-কিক থেকে কোনো ভুল করেননি ইউরি টিলেমান্স। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে বিশ্বকাপে স্মরণীয় এক প্রত্যাবর্তনের জয় তুলে নেয় তারা।

এর আগে সিয়াটলের ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আফ্রিকার দলটি। ১৩তম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছিল তাদের। বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার ভুলে বল পেয়ে যান ইসমাইলা সার। তার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলেও গোলের চেষ্টা করেছিলেন সার, তবে সেটি বাইরের জালে লাগে।

বারবার আক্রমণের ফল পেতে অবশ্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি সেনেগালকে। ২৫তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে সাদিও মানের নিখুঁত বাঁকানো ক্রসে হেড করেন ইসমাইলা সার। তার হেডে কোর্তোয়া পরাস্ত হলেও বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে সহজেই জালে পাঠিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। তাতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সেনেগাল।

গোলের পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে সেনেগাল। অন্যদিকে বেলজিয়াম পুরো প্রথমার্ধেই নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেনি। আক্রমণে কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি রক্ষণেও ছিল কিছুটা নড়বড়ে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছে সেনেগাল। আর সেই গোলের নায়ক ইসমাইল সার। মুসা নিয়াখাতের অসাধারণ এক লম্বা থ্রু বল বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়। বল পেয়ে দুর্দান্ত গতিতে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন সার। এরপর কোনো ভুল না করে শক্তিশালী শটে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। ব্যবধান দ্বিগুণ হওয়ার বেলজিয়ামকে দাঁড়াতে দেয়নি সেনেগালিজরা।

তবে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২–০ গোলে পিছিয়ে থাকা বেলজিয়াম ম্যাচে ফিরল দারুণভাবে। ৮৬–৮৯ এই তিন মিনিটের মধ্যে দুই গোল শোধ করে ২–২ সমতা ফিরিয়েছে তারা। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে সেনেগালের বিপক্ষে বেলজিয়ামের হয়ে গোলটি করেছেন রোমেলু লুকাকু। এরপর ৮৯ মিনিটে দারুণ এক হেডে দ্বিতীয় গোলটি করেছেন ইউরি টিলেমান্স। এতে ২-২ ব্যবধানে সমতায় আনে লুকাকুরা। শেষ ষোলোয় যুক্তরাষ্ট্র-বসনিয়া ম্যাচের জয়ী দলের বিপক্ষে খেলবে বেলজিয়াম।