সময়ের জনমাধ্যম

ফিলিস্তিনি পতাকা ইয়ামালের হাতে, তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী

স্পেনের ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা

Last Updated on 2 mins by zajira news

স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: স্পেনের ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালের ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানোকে ঘিরে প্রবল আলোচনা চলছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ ঘটনাকে ‘ঘৃণা উসকে দেয়া’ বলে মন্তব্য করেছেন।

১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল গত সোমবার (১১ মে) বার্সেলোনার লা লিগা শিরোপা উদযাপন উপলক্ষে খোলা ছাদের বাসে বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নেন। এ সময় তাকে বড় একটি ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে দেখা যায়।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, আগের দিন নিশ্চিত হওয়া লিগ শিরোপা উদযাপনে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ ওই শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইসরায়েল কাটজ লেখেন, ‘লামিনে ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর পথ বেছে নিয়েছে, যখন আমাদের সেনারা হামাস নামের সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই সংগঠন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইহুদি শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের হত্যা, ধর্ষণ ও পুড়িয়ে মেরেছিল।’

মুসলিম ধর্মাবলম্বী ইয়ামাল পরে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও ফিলিস্তিনি পতাকা হাতে থাকা কয়েকটি ছবি পোস্ট করেন।

২০২৩ সালে হামাস নেতৃত্বাধীন হামলার জবাবে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হয়। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্পেন সরকার ও দেশটির জনগণের একটি বড় অংশ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে আসছে।

গাজায় যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও। ফুটবল, সাইক্লিং ও বাস্কেটবলেও প্রতিবাদ দেখা গেছে।

গত বছরের স্প্যানিশ ভুয়েলতা সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় ইসরায়েল-সমর্থিত একটি দলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে একাধিকবার বিক্ষোভ হয়েছিল। এছাড়া, ইসরায়েলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে এ বছরের ইউরোভিশন সং প্রতিযোগিতা বয়কট করা পাঁচটি দেশের একটি স্পেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ধর্মপ্রাণ মুসলিম ইয়ামাল ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট নিয়ে বরাবরই সংবেদনশীল। নিজের পরিচিতিকে ব্যবহার করে নিজের বিশ্বাস বা মতাদর্শ প্রকাশে তিনি কখনোই কুণ্ঠা বোধ করেননি। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল তাঁর জীবনে ধর্মের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। এমনকি একজন পেশাদার ফুটবলার হয়েও রমজান মাসে কীভাবে রোজা ও খেলাধুলার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। এর আগে গত মার্চে মিসরের বিপক্ষে স্পেন জাতীয় দলের ম্যাচে দর্শকদের মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগানের বিরুদ্ধেও সরাসরি প্রতিবাদ জানান ইয়ামাল।