Last Updated on 1 hour by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: র্যাট ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে ফিশিং লিংক তৈরি করে নাগরিকদের মোবাইল ফোনে পাঠানো হচ্ছে। ওই লিংকে ক্লিক করলেই ফোনের নিয়ন্ত্রণ চলে যাচ্ছে অপরাধীদের হাতে।
এরপর ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে টাকা। পরে সেই অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে।
সম্প্রতি দুজনকে গ্রেফতারের পর সিআইডি বলছে, অভিনব এই জালিয়াতিতে বাংলাদেশিদের এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক চক্র।
প্রতিদিনের মতো গত ২ সেপ্টেম্বর মোবাইল ফোনে ফেসবুক স্ক্রল করছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখার স্টেনোগ্রাফার গোলাম মুরসালিন। হঠাৎ তার ফোনে সফটওয়্যার আপডেটের নোটিফিকেশন আসে। সেই লিংকে ক্লিক করতেই কালো হয়ে যায় ফোনের স্ক্রিন।
অনেক চেষ্টা করেও ফোনটি ঠিক করতে পারছিলেন না গোলাম মুরসালিন। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর নিজে থেকেই খুলে যায় ফোন। এরপর একের পর এক আসতে থাকে টাকা ট্রান্সফারের মেসেজ। পরে ব্যাংকিং অ্যাপে ঢুকে দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে ৯ লাখ টাকা উধাও।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ জানান গোলাম মুরসালিন। এ ঘটনায় রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করেন তিনি। এরপর তদন্তে নামে সিআইডি। টাকা লেনদেনের সূত্র ধরে রংপুরে খোঁজ মেলে দুজনের। প্রতারণার বিভিন্ন আলামতসহ গ্রেফতার করা হয় ইমরান সৌরভ ও সাগর হোসেনকে।
সিআইডি বলছে, টেলিগ্রামে সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক অনলাইন জালিয়াত চক্র। পরে ‘রিমোট অ্যাকসেস টুলস’ বা র্যাট ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে ফিশিং লিংক পাঠিয়ে নাগরিকদের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেয়া হচ্ছে। এরপর লোপাট করা হচ্ছে অর্থ।
ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে খোলা ব্যাংক ও এমএফএস হিসাবে স্থানান্তর করা হয় সেই অর্থ। পরে তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়। অভিনব এই জালিয়াতিতে রাশিয়া, চীন ও দুবাইভিত্তিক আন্তর্জাতিক চক্রের সম্পৃক্ততা পেয়েছে সিআইডি।


