সময়ের জনমাধ্যম

ইসরায়েলের নির্বাচনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ, সরকার গঠনে শুরু নতুন সমীকরণ

Last Updated on 56 mins by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি (সিইসি)।

শুক্রবার (৩০ অক্টোম্বর) স্থানীয় সময় ভোরে শতভাগ ভোট গণনা শেষে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি, গাদি আইজেনকোটের জোট ৪৮টি এবং আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে।

‘দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই দেশটির সর্বোচ্চ ভোটের হার। মোট ভোট দিয়েছেন ৫৭ লাখ ১৬ হাজার ৬৬৫ জন।

দলভিত্তিক আসন বণ্টন

চূড়ান্ত ফলাফলে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেয়ে একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ আসন অর্জন করেছে। অন্যদিকে, আইজেনকোটের ইয়াশার পেয়েছে ২১টি আসন।

এ ছাড়া নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের ‘টুগেদার’ (বেইয়াখাদ) ১২টি, জয়েন্ট লিস্ট ১১টি, ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং আরব দল রা’আম ৮টি আসন পেয়েছে।

আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ও ওতজমা ইয়েহুদিত প্রত্যেকেই পেয়েছে ৭টি করে আসন। শাস ও রিলিজিয়াস জায়নিস্টস পেয়েছে ৬টি করে আসন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি, পিপল অব ইসরায়েল পার্টি এবং দ্য চেরেডি পাবলিক পার্টিসহ কয়েকটি দল কোনো আসন পায়নি।

কমেছে নেতানিয়াহুর জোটের আসন

নতুন ফলাফলে বর্তমান ক্ষমতাসীন নেতানিয়াহুপন্থী জোটের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগের নেসেটে তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল ৬৮টি আসন।

অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। আগের নেসেটে এই দুই দলের আসন ছিল মোট ১০টি। ফলে এবার তাদের প্রতিনিধিত্ব প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

সরকার গঠনের পরবর্তী প্রক্রিয়া

নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফল আগামী বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তরের কথা রয়েছে। এর আগে ভোট গণনায় কোনো ভুল বা অভিযোগ থাকলে তা নিয়ে চূড়ান্ত তদন্ত শেষ করবে নির্বাচন কমিটি।

ফল হস্তান্তরের পর নতুন সরকার গঠনের জন্য কাকে দায়িত্ব দেওয়া উপযুক্ত, তা নির্ধারণে প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার গঠনের জন্য একজনকে সুপারিশ করবেন তিনি।

তবে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইজেনকোটের জোটের দ্য ডেমোক্র্যাটস ছাড়া অন্য দলগুলো রা’আম বা জয়েন্ট লিস্টের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছে। ফলে এসব দলের আসন নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরকে সহজে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারছে না।

ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এই সংখ্যায় পৌঁছাতে না পারায় জোট গঠনের আলোচনা দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ

এদিকে, বৃহস্পতিবার হিব্রু গণমাধ্যমে ইসরায়েলের নির্বাচনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, কাতার থেকে বিপুল অর্থ পাঠিয়ে আরব ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে।

এ অভিযোগের পর কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান নোয়াম সোলবার্গ দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।

তবে কাতার-সংশ্লিষ্ট প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভোট জালিয়াতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে নির্বাচন কমিটি। বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভন বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর কোনো ভিত্তি নেই।

তিনি আরও জানান, তদন্তের কারণে প্রেসিডেন্টের কাছে জমা দেওয়া চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো পরিবর্তন আসবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তদন্তে জনসংখ্যার কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে না।

নতুন নেসেটের শপথ ১০ নভেম্বর

সরকার গঠনের আলোচনা চলমান থাকলেও আগামী ১০ নভেম্বর নেসেটের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।

গত বুধবার প্রেসিডেন্ট হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোকে আরেকটি নির্বাচন এড়াতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন নির্বাচন এড়াতে সব ধরনের প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলোর নেতাদের খোলা মন নিয়ে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—দুজনই পরবর্তী সরকার গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।