Last Updated on 25 seconds by zajira news
স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ৫২ রানে ফিরলেন নাঈম। তাঁর বিদায়ে বাংলাদেশ গুটিয়ে গেছে ১৪২ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ লিড ছিল ২৭ রান। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭০ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে বাংলাদেশ।
টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটি পেলেন নাঈম। সেটাও এসেছে বাংলাদেশের বিপদের সময়ে। গতকাল বিকেলে যখন ব্যাটিংয়ে এসেছেন তখন বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ৫৩। সেখান থেকে বাংলাদেশকে টেনে তুলেছেন নাঈম।
মিরপুরে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার টেস্টের চতুর্থ দিনের খেলা বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। প্রথম সেশনের খেলা শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টি নামায় মাঠ ঢেকে রাখা হয়েছিল। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৯ উইকেটে ১৩২ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মধ্যে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করছেন নাঈম হাসান। বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে ৪টি চারের সাহায্যে ৪৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। শেষ ব্যাটার শরিফুল ইসলাম এখন তাঁর সঙ্গে উইকেটে ছিলেন।
বাংলাদেশের নবম ব্যাটার হিসেবে সাজঘরে ফেরেন তাইজুল ইসলাম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজের বলে প্যাডে আঘাত লাগলে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন বোলার। আম্পায়ার তাতে সাড়া দিলে ৮ রানেই থামে তাইজুলের ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে আসে একটি চার।
এরপর নাঈমকে সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করেন হাসান মাহমুদ। তবে জোমেল ওয়ারিক্যানের স্পিনে এলবিডব্লিউ হয়ে ৮ রান করে বিদায় নেন তিনিও।
এর আগে ওয়ারিক্যানের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন বাংলাদেশের সপ্তম উইকেটের ব্যাটার। আগের বলেই কাভার ড্রাইভে দৃষ্টিনন্দন চার মেরেছিলেন তিনি। কিন্তু পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন, ফলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৫৩ রানে ৬ উইকেট।
এর আগে টানা তৃতীয় দিনের মতো আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা শেষ হয়। তৃতীয় দিনে মোট ৬৩ ওভার খেলা হয়েছে। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করেছে ৩৪ ওভার, বাংলাদেশ ২৯ ওভার।
দিনের শুরুতে ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে ক্যারিবীয়রা। বাকি ৬ উইকেট হারিয়ে তারা প্রথম ইনিংসে ২৪৫ রান সংগ্রহ করে। এতে ২৭ রানের লিড পায় বাংলাদেশ।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে স্বস্তিতে থাকতে পারেনি স্বাগতিকরা। আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ২৯ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৭৯ রান করে বাংলাদেশ। জাকের আলী ও নাঈম হাসান ১৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তাঁদের জুটি থেকে আসে ৬ রান।
দিনের শেষ ব্যাটার হিসেবে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে বোল্ড হন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৯ রান করে বিদায় নেওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫৩ রানে ৬ উইকেট। এর আগে ওয়ারিক্যানের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ৪ রানেই আউট হন লিটন কুমার দাস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে রস্টন চেজ ৩টি, জোমেল ওয়ারিক্যান ২টি এবং শামার জোসেফ ১টি উইকেট নেন।
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭২ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ একসময় ৫ উইকেটে ২১৩ রান তুলে ফেলেছিল। তবে শেষ দিকে নাঈম হাসানের অফস্পিনে ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং। নাঈম নেন ৪টি উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম পান ২টি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত ২৪৫ রানে অলআউট হয় ক্যারিবীয়রা।
লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে জাস্টিন গ্রেভসকে এলবিডব্লিউ করে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন নাঈম। ৪৬ রান করা গ্রেভস মাত্র ৪ রানের জন্য অর্ধশতক হাতছাড়া করেন। স্বীকৃত ব্যাটারদের মধ্যে তখনও ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক রস্টন চেজ, যিনি ৪৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বোলারদের দীর্ঘ সময় আটকে রাখেন। তৃতীয় দিনের প্রথম পৌনে এক ঘণ্টাও তিনি অনায়াসে পার করেন। শেষ পর্যন্ত শরিফুল ইসলামের বলে এজ হয়ে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়েন চন্দরপল। ১৮৪ বলের ইনিংসে তিনি করেন ৫৬ রান।
চন্দরপল-চেজের প্রতিরোধ ভাঙার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোর দাঁড়ায় ১৬২ রানে ৫ উইকেট। তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হয়েছিল ক্যারিবীয়দের ৪ উইকেটে ১৩৪ রান নিয়ে।


