সময়ের জনমাধ্যম

আয়কর অডিট বা নিরীক্ষায় পড়লে কী করবেন? ১০টি প্রশ্নের উত্তর

Last Updated on 1 min by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: আয়কর অডিট বা নিরীক্ষা নিয়ে করদাতাদের মনে ভয় আছে। আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার পর অনেক করদাতার মনে একটি প্রশ্ন ঘোরে, ‘আমার রিটার্ন কি নিরীক্ষায় পড়বে?’ নিরীক্ষায় পড়লে ভোগান্তি বা হয়রানি বাড়বে, এমন শঙ্কায় থাকেন তাঁরা।

এ বছর তিন দফায় এক লাখ করদাতার আয়কর রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে করদাতার কর নথি নিরীক্ষার জন্য বাছাই করেছেন কর কর্মকর্তারা। মনে রাখবেন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জমা দেওয়া রিটার্ন থেকে এই বাছাই করা হয়েছে।

আপনি নিয়ম মেনে যথাসময়ে আপনার আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। কিন্তু সেই আয়কর রিটার্ন ঠিক আছে কি না, তা দেখতে এনবিআর নিরীক্ষা করবে। গত কয়েক বছর নিরীক্ষা বন্ধ ছিল। গত অর্থবছর থেকে নতুন নিরীক্ষা শুরু হলো।

মনে রাখবেন, আয়কর নিরীক্ষা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়; এটি কর প্রশাসনের একটি স্বাভাবিক যাচাইপ্রক্রিয়া। সঠিক তথ্য, সংরক্ষিত নথি এবং সময়মতো সাড়া দেওয়াই আয়কর নিরীক্ষায় সবচেয়ে বড় শক্তি। করদাতা হিসেবে নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকলে অডিট নিয়ে অযথা উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই।

এসব বিবেচনায় আয়কর নিরীক্ষা নিয়ে কিছু প্রশ্নের জবাব দেওয়া হলো–
১. আয়কর নিরীক্ষা বা অডিট কী?

আয়কর নিরীক্ষা হলো এনবিআরর কর বিভাগের এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে করদাতার রিটার্নে দেওয়া তথ্য, আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় ও কর পরিশোধের তথ্য নথিপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।

২. নিরীক্ষা মানেই কি কর ফাঁকি?

না। নিরীক্ষায় পড়া মানেই কর ফাঁকির অভিযোগ নয়। এটি নিয়মিত যাচাইয়ের অংশও হতে পারে।

৩. কারা নিরীক্ষায় পড়তে পারেন?

যেকোনো করদাতার রিটার্ন নিরীক্ষার জন্য নির্বাচন হতে পারে। এনবিআরের কর বিভাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কে নথি নিরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করে। তবে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য, বড় অঙ্কের লেনদেন, অস্বাভাবিক কর রেয়াত বা তথ্যের অসংগতি থাকলে বিশেষ নিরীক্ষা হতে পারে।

৪. নিরীক্ষার নোটিশ পেলে প্রথমে কী করবেন?

নোটিশটি ভালোভাবে পড়ুন। কী তথ্য বা নথি চাওয়া হয়েছে, কত দিনের মধ্যে দিতে হবে এবং কোথায় জমা দিতে হবে—এসব বুঝে সময়মতো প্রস্তুতি নিন। প্রয়োজনে আপনার আয়কর আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলুন।

৫. কোন কোন কাগজপত্র লাগতে পারে?

সাধারণ আয়কর নিরীক্ষার যেসব তথ্য ও কাগজপত্র চাওয়া হয়, এর মধ্যে অন্যতম হলো-

১. রিটার্ন ও কর হিসাব

২. বেতন বা আয়ের সনদ

৩. ব্যাংক হিসাবের বিবরণী

৪. উৎসে কর (টিডিএস) সনদ

৫. ব্যবসার হিসাবপত্র (যদি থাকে)

৬. সম্পদ ও বিনিয়োগের কাগজপত্র (ফ্ল্যাট-জমি কেনা, গাড়িসহ নানা ধরনের সম্পদ)

৭.ঋণ বা দায়ের প্রমাণপত্র

৬.নিরীক্ষা চলাকালে কি কর কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে হবে?

প্রয়োজনে হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে লিখিত ব্যাখ্যা ও নথি জমা দিলেই হয়। আবার প্রয়োজন হলে শুনানিতেও অংশ নিতে হতে পারে। তবে প্রয়োজন না হলে দেখা না করাই ভালো।

৭. সময়মতো জবাব না দিলে কী হতে পারে?

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে কর কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারে। তাই সময়মতো সাড়া দেওয়া জরুরি।

৮. ভুল হলে কি সঙ্গে সঙ্গে জরিমানা হবে?

সব ক্ষেত্রে নয়। আগে করদাতাকে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ব্যাখ্যা ও নথি সন্তোষজনক হলে অনেক বিষয় সেখানেই নিষ্পত্তি হতে পারে।

৯. অতিরিক্ত কর নির্ধারণ হলে কী হবে?

কর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত কর নির্ধারণ করলে তার কারণ জানাবে। আইন অনুযায়ী করদাতা তা পরিশোধ করতে পারেন বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন।

১০. নিরীক্ষার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যায়?

হ্যাঁ। কর আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়সীমার মধ্যে আপিলের সুযোগ রয়েছে। সূত্র: প্রথম আলো