সময়ের জনমাধ্যম

নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দিচ্ছেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট

Last Updated on 2 mins by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। শনিবার (৭ নভেম্বর) এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

দেশটির দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও পার্লামেন্টে সবচেয়ে বড় জোট হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে।

সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট আরব দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি জোট গড়তে আগ্রহী নন। তবে এসব দলের সমর্থন পেলে পার্লামেন্টে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে তাঁর। নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থি সহযোগীদের বর্ণবাদী নীতির বিরোধিতা করে ক্ষুব্ধ আরব নেতারা সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ আইজেনকটকে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণে অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের তুলনায় তাঁর প্রতি বেশি সমর্থন এসেছে।

ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আইজ্যাক হারজগ বিরোধী জোটের নেতা আইজেনকটকে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে রোববার তাঁকে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকট বলেছেন, এখন জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময়। এই দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জনে তাঁরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

দায়িত্ব পাওয়ার পর সরকার গঠনের লক্ষ্যে আইজেনকটকে কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চালাতে হতে পারে। এ জন্য তিনি প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন হলে সময়সীমা আরও ১৪ দিন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

সরকার গঠনে তাঁর সামনে কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন, অতীতে যেসব অতি-ধর্মীয় ইহুদি দলের সঙ্গে তিনি ও তাঁর মিত্ররা জোটে যেতে চাননি, তাদের অন্তর্ভুক্ত করে সরকার গঠন কিংবা নেতানিয়াহুর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যের সরকার প্রতিষ্ঠা—এই তিনটি পথ বিবেচনায় রয়েছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, কোনো বিকল্পই বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না। আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অন্য কোনো প্রার্থীকে সেই সুযোগ দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী প্রচেষ্টাও সফল না হলে পার্লামেন্টের সদস্যরা নতুন কাউকে মনোনীত করতে পারবেন। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রায় ১০০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। এর মধ্যে সরকার গঠন সম্ভব না হলে ইসরায়েলে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ২৭টি আসন পেয়েছে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি। তবে তাঁর ধর্মীয়-জাতীয়তাবাদী জোটের মোট আসন ৫৩টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের তুলনায় যা আটটি কম।

অন্যদিকে, আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন নিয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। মধ্য-বামপন্থি থেকে ডানপন্থি অবস্থানের চারটি ইহুদি-নেতৃত্বাধীন দল নিয়ে গঠিত তাঁর জোটের আসনসংখ্যা ৪৮। আর ইসরায়েলের আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি দল পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন।

মরক্কো থেকে ইসরায়েলে আসা অভিবাসী পরিবারের সন্তান ৬৬ বছর বয়সী আইজেনকট দেশটির মিজরাহি সম্প্রদায় থেকে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় যেসব ইহুদির পূর্বপুরুষের শিকড়, তাঁরা মিজরাহি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।

ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনেকটা প্রচারবিমুখ আইজেনকট ২০২২ সালে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি বিরোধী শিবিরে ফিরে যান।

বিরোধী দলে থাকার সময় নেতানিয়াহুর নেতৃত্ব এবং গাজায় সামরিক অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন আইজেনকট। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কোনো সরকারে আর যোগ দেবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

২০২৩ সালের পর গাজায় যুদ্ধের সময় পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনাও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ওই যুদ্ধে তাঁর এক ছেলে ও দুই ভাতিজা নিহত হন।

নির্বাচনী প্রচারে নিজের সামরিক অভিজ্ঞতা ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন আইজেনকট। এ সময় তিনি ‘দাহিয়েহ ডকট্রিন’-এর প্রসঙ্গও আনেন। এই সামরিক নীতিতে কোনো হামলার জবাবে পাল্টা অভিযানে অসমানুপাতিক শক্তি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

২০০৬ সালে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় কমান্ডারের দায়িত্ব পালনকালে তিনি এই নীতি প্রয়োগ করেছিলেন।

২০২৩ সালের পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধিরও সমালোচনা করেছেন আইজেনকট। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

এ ছাড়া নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি জোটের দুই প্রভাবশালী নেতা ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে পশ্চিমা কয়েকটি দেশ এই দুই নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। সূত্র: রয়টার্স