Last Updated on 58 mins by zajira news
স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: ব্যাটিং বিপর্যয়ে মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শেষ হওয়া ম্যাচে ১৭০ রানের লক্ষ্য ৩৫.১ ওভারেই পেরিয়ে যায় সফরকারীরা। এই হারে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার বাংলাদেশের সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ২৭২ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ২৪৫ রানে। এতে ২৭ রানের এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা। কিন্তু সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেনি দল। মাত্র ১৬৯ রানে অলআউট হওয়ায় ক্যারিবীয়দের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল। তাঁদের উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ১১ ওভারেই দলীয় সংগ্রহ পঞ্চাশ ছাড়ায়। ১৯ ওভারে আসে শতরান।
শরিফুল ইসলাম ৪৯ রান করা ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করে প্রথম উইকেট এনে দেন বাংলাদেশকে। পরে তেজনারাইন চন্দরপলকে ফিরিয়ে দেন হাসান মাহমুদ। তবে এরপর আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা।
অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন ব্র্যান্ডন কিং। তাঁর ১০টি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি ছিল ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ। কাভেম হজ ২৭ বলে ৪টি চার ও একটি ছক্কায় করেন ৩১ রান।
শনিবার সকালে আগের দিনের ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন জাকের আলি। তবে একপ্রান্তে দৃঢ়তা দেখিয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন নাঈম হাসান।
ফিফটির পর বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন নাঈম। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫২ রান। শেষ পর্যন্ত ১৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অধিনায়ক রস্টন চেইস। ৩৬ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর পঞ্চম পাঁচ উইকেটের কীর্তি। জোমেল ওয়ারিক্যান নেন ৬৩ রানে ৪ উইকেট।
ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশের ফিল্ডিংও ছিল হতাশাজনক। একাধিকবার সুযোগ পেয়েও ব্র্যান্ডন কিংকে আউট করতে পারেনি স্বাগতিকরা। এ ছাড়া আম্পায়ার্স কলের কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা চারবার আউটের সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা পান। বাংলাদেশের নেওয়া রিভিউগুলোতেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
এই পরাজয়ে ঘরের মাঠে টানা পাঁচ টেস্ট জয়ের রেকর্ড থামল বাংলাদেশের। এর আগে জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি টেস্টে জয় পেয়েছিল টাইগাররা।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার আশা টিকিয়ে রাখতে বাকি পাঁচ ম্যাচের অন্তত চারটিতে জয় এবং অন্য ম্যাচে ড্র করতে হবে বাংলাদেশকে। ফলে সামনের ম্যাচগুলোতে প্রতিটি পয়েন্টই দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


