সময়ের জনমাধ্যম

২০ বছরে ব্রিকস: জি-৭ জোটকে ছাড়িয়ে কতটা শক্তিশালী ?

Last Updated on 57 mins by zajira news

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: একসময় যাকে ‘ছোট্ট গ্রুপ’ বলে তাচ্ছিল্য করা হত, দুই দশকের ব্যবধানে সেই ব্রিকসই এখন বৈশ্বিক জিডিপির যোগানে জি-৭ কে ছাড়িয়ে গেছে।

২০০৬ সালে চার দেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করা ব্রিকস এখন ১১ দেশের জোট। বিশ্ব অর্থনীতির মেরুকরণ বদলাতে কতটা ভূমিকা রাখছে এই জোট?

শনি ও রোববার ভারতের নয়া দিল্লিতে বসছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। ভারত এ নিয়ে চতুর্থবারের মত এই শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজক।

ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা, বাণিজ্য বিরোধ এবং ভূ-রাজনৈতিক জোটের পরিবর্তনের এই সময়ে এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—’সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্মাণ’।

এনডিটিভি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একসময় ব্রিকসকে একটি ‘ছোট্ট গ্রুপ’ বলে তাচ্ছিল্য করেছিলেন। কিন্তু বর্তমানের বিভক্ত বিশ্বে দেশগুলো যখন নিজেদের কৌশলগত অংশীদারত্ব নতুন করে সাজাচ্ছে, তখন বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ব্রিকস হয়ে উঠেছে এক প্রভাবশালী শক্তি।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই জোটের গুরুত্ব ও শক্তির জায়গাগুলো তুলে ধরেছে এনডিটিভি। ২০০৬ সালে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীনকে নিয়ে চার সদস্যের জোট হিসেবে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। সে সময় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই জোটের অবদান ছিল ২০.৪ শতাংশ, যা জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর অর্ধেকেরও কম।

কিন্তু নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি এবং উদীয়মান অর্থনীতির দ্রুত সম্প্রসারণে ব্রিকসের অর্থনৈতিক পরিধি ক্রমশ বড় হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ (এপ্রিল ২০২৬) অনুযায়ী–

* ২০২০ সালেই বৈশ্বিক জিডিপির অংশের দিক থেকে জি-৭ জোটকে ছাড়িয়ে যায় ব্রিকস।

* ২০২৬ সালে বৈশ্বিক জিডিপির ৪১ শতাংশ ব্রিকসের দখলে থাকবে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

* বিপরীতে, জি-৭ জোটের অবদান নেমে আসবে ২৮ শতাংশে।

বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা ১১ হলেও এর অর্থনৈতিক শক্তি মূলত চীন ও ভারতকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। জোটের মোট জিডিপির প্রায় ৭০ শতাংশই এ দুই দেশ থেকে আসে।

ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের মোট রপ্তানির ২২ শতাংশ এবং আমদানির ৪১ শতাংশই হয়েছে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে।

– আমদানি ও রপ্তানি: চীনের আধিপত্য এখানে স্পষ্ট; ভারতের ব্রিকস আমদানির ৪১% আসে চীন থেকে। অন্যদিকে, মুক্তা, মূল্যবান পাথর ও অলঙ্কারের চালানের ওপর ভর করে ভারতের ব্রিকস রপ্তানির ৩৯% যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

– জ্বালানি নিরাপত্তা: সস্তায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার কারণে ভারতের বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে রাশিয়ার গুরুত্ব ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

–  প্রবাসী ভারতীয়: প্রায় ৮৯ লাখ ৮০ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন ব্রিকস দেশগুলোতে, যার মধ্যে কেবল আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবেই আছেন ৭০ লাখের বেশি।

ব্রিকসের এই উত্থান বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রিকস প্রতিষ্ঠিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (এনডিবি) বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে ২০২১ সালে।

গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধি হিসেবে ব্রিকস বিকল্প অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করায়, দীর্ঘমেয়াদে এটি বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত অর্থায়নে বৈচিত্র্য আনতে পারে। প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর, ব্রিকস এখন আর কেবল উদীয়মান অর্থনীতির সাধারণ জোট নেই; এটি এখন বৈশ্বিক উৎপাদনে নেতৃত্ব দেওয়া একটি বলয়।

বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য ধীরে ধীরে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর দিকে হেলে পড়ায়, উদীয়মান বিশ্বব্যবস্থার নতুন রূপ দিতে ব্রিকস আগামীতে আরও নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে।

Reendex

Must see news