Last Updated on 1 day by zajira news
স্পোর্টস ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: একদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছিল বাংলাদেশ, অন্যদিকে ব্যাট হাতে অবিচল ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। সতীর্থরা একে একে সাজঘরে ফিরলেও প্রতিপক্ষ বোলারদের সামনে দৃঢ়তা দেখিয়ে নিজের ইনিংস এগিয়ে নেন এই ডানহাতি ব্যাটার। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট শতককে অসাধারণ দ্বিশতকে পরিণত করে দলকে এনে দেন গুরুত্বপূর্ণ লিড।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষে ১১১.৫ ওভারে ৩৮৬ রান তুলে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ৩০ রানে এগিয়ে থেকে ইনিংস শেষ করেছে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশের এই লিড গড়ে দেওয়ার প্রধান কৃতিত্ব হৃদয়ের। দিনের খেলা শুরু হয়েছিল ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে। আগের দিন অপরাজিত থাকা মুশফিকুর রহিম ও হৃদয়ের ওপর নির্ভর করছিল দলের ইনিংস।
তবে দিনের শুরুতেই মুশফিকের বিদায়ে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৭৬ বল খেলে ৩৪ রান করে ফিরে যান অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। এরপর একের পর এক সতীর্থের বিদায় ঘটলেও উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে রান সংগ্রহ অব্যাহত রাখেন হৃদয়।
বাংলাদেশের হয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১৮ রান। লিটন দাস করেন ৮ রান এবং মেহেদী হাসান মিরাজের সংগ্রহ ১৬। হাসান মাহমুদ আউট হন ১ রান করে। শেষ দিকে তাইজুল ইসলাম ২২ ও তাসকিন আহমেদ ১২ রান যোগ করেন। চোটের কারণে ব্যাট করতে পারেননি সাদমান ইসলাম।
দলের অন্য ব্যাটাররা প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও হৃদয় ছিলেন ব্যতিক্রম। নবম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে এবং দশম উইকেটে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে কার্যকর জুটি গড়ে বাংলাদেশকে লিড এনে দেওয়ার পথ সুগম করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটার।
৩৫৯ বলের ইনিংসে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে ২৪২ রান করেন হৃদয়। ধৈর্যের সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সমন্বয়ে সাজানো তাঁর এই ইনিংস বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।
ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই দ্বিশতকে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড গড়েছেন হৃদয়। এর মধ্য দিয়ে মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন জোমেল ওয়ারিকান। ৪১ ওভার বোলিং করে ১০৪ রান খরচায় চারটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। জয়ডেন সিলসের ঝুলিতে গেছে দুটি উইকেট। এ ছাড়া শামার জোসেফ, জাস্টিন গ্রিভস ও রোস্টন চেজ একটি করে উইকেট শিকার করেন।


