সময়ের জনমাধ্যম

এআই দিয়ে যেভাবে আয় করবেন

Last Updated on 4 hours by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: আগে যেখানে ফ্রিল্যান্সিং বা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের কাজ শিখতে দীর্ঘ সময় লাগত, এখন বিভিন্ন এআই টুলের সাহায্যে খুব অল্প সময়েই আন্তর্জাতিক মানের কাজ করা সম্ভব, যদি সেই দক্ষতা আপনার থাকে।

চ্যাটজিপিটি বা ক্যানভার মতো টুলগুলো ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই প্রতি মাসে ভালো অঙ্কের টাকা আয় করতে পারেন। কীভাবে? চলুন আলোচনা করা যাক।

এআইকে কাজে লাগিয়ে আয়ের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হলো কনটেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গ্রাফিক ডিজাইন। চ্যাটজিপিটি বা ক্লড ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্লগ, ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কনটেন্ট ও এসইও–বান্ধব আর্টিকেল লিখতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে এ ধরনের কাজের সন্ধান পাবেন।

যাঁরা ডিজাইনে আগ্রহী, তাঁরা ক্যানভা ব্যবহার করে চমৎকার লোগো, টি-শার্ট ডিজাইন কিংবা ডিজিটাল আর্টের কাজ করে দেশের বাজারে বা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি করতে পারেন। এমনকি ক্যানভা এআইয়ের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা প্রেজেন্টেশন স্লাইড ডিজাইন করেও আয় করতে পারেন। এ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন ই-কমার্স পেজ বা স্টার্টআপ কোম্পানিতে খণ্ডকালীন সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করা সম্ভব।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা প্রযুক্তির কল্যাণে কোডিং বা প্রোগ্রামিংয়ের গভীর জ্ঞান ছাড়াই এখন গেম ডেভলপমেন্ট করা যায়। গেমের আইডিয়া তৈরি ও কোডিং সহজ করছে এআই। চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল ব্যবহার করে গেমের আকর্ষণীয় গল্প, গেমপ্লে মেকানিকস এবং ইউনিটি বা আনরিয়েল ইঞ্জিনের প্রয়োজনীয় কোড বা স্ক্রিপ্ট খুব দ্রুত লিখে নেওয়া যায়। এর ফলে একজন নতুন ডেভেলপারও অল্প সময়ে গেম তৈরি করে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে পাবলিশ করতে পারেন। গেমের ভেতর বিজ্ঞাপন বসিয়ে বা ইন-অ্যাপ পারচেজ যুক্ত করে প্রতি মাসে আয় করা সম্ভব।

এআই জেনারেটেড ডিজাইন বিভিন্ন গেম ডেভলপমেন্ট মার্কেটপ্লেসে ডিজিটাল পণ্য হিসেবে বিক্রি করে বড় অঙ্কের টাকা আয় করতে পারেন। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং সাইটে ছোট ও সহজ গেম (যা হাইপার-ক্যাজুয়াল গেম নামে পরিচিত) তৈরির বেশ চাহিদা আছে। বিভিন্ন এআই মিউজিক জেনারেটর দিয়ে গেমের ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ডট্র্যাক বানিয়ে, এআই কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্যে দ্রুত এই গেমগুলো তৈরি করেও বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছে বিক্রি করা যায়।

তথ্যপ্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের যুগে ভাষাবিজ্ঞান, কোডিং ও ভিডিও এডিটিংয়ের ক্ষেত্রেও এআই শিক্ষার্থীদের জন্য আয়ের নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী পেশাদার পর্যায়ে ভিডিও এডিটিং পারেন না, তাঁরা ইনভিডিওর মতো এআই টুল ব্যবহার করে স্ক্রিপ্ট থেকে সরাসরি আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরি করতে পারেন। এ ছাড়া এআইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা—ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিংয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন টেক কোম্পানি ডেটা লেবেলিং ও এআই ট্রেনার হিসেবে খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ দিচ্ছে। যাঁরা প্রোগ্রামিং শিখছেন, তাঁরা গিটহাব কোপাইলট ব্যবহার করে দ্রুত কোডিং ও বাগ ফিক্সিংয়ের ফ্রিল্যান্সিং প্রজেক্ট শেষ করতে পারেন।

আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট বা গবেষণা সহায়তাকারীদের প্রচুর চাহিদা। চ্যাটজিপিটি বা ক্লডের মতো এআই টুল ব্যবহার করে যেকোনো জটিল বিষয়ের লিটারেচার রিভিউ প্রস্তুত করা, দীর্ঘ আর্টিকেল সংক্ষেপ করা এবং প্রয়োজনীয় রেফারেন্স সাজানোর কাজগুলো খুব দ্রুত করা যায়। শিক্ষার্থীরা ফাইভার বা আপওয়ার্কের মতো প্ল্যাটফর্মে বিদেশি গবেষক, অধ্যাপক বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এসব কাজে সহায়তা দিয়ে প্রতি প্রজেক্টে ভালো অঙ্কের টাকা আয় করতে পারেন।

বিশ্বজুড়ে ইংরেজি ভাষা শেখার তীব্র চাহিদা আছে। চ্যাটজিপিটি বা বিশেষায়িত এআই টিউটরিং টুল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা সহজেই আকর্ষণীয় ইংরেজি শেখার লেসন প্ল্যান, কুইজ ও স্পোকেন ইংলিশের সিলেবাস তৈরি করতে পারেন। এই এআই-ভিত্তিক কনটেন্টগুলো কাজে লাগিয়ে নিজস্ব অনলাইন ব্যাচ শুরু করা, সোশ্যাল মিডিয়ায় ইংরেজি শেখানোর ভিডিও তৈরি করে মনিটাইজ করা কিংবা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টিউটরিং প্ল্যাটফর্মে ভাষাশিক্ষার মেন্টর হিসেবে যোগ দিয়ে সরাসরি সম্মানজনক আয় করা সম্ভব ঘরে বসেই।