সময়ের জনমাধ্যম

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা আমানতের টাকা তুলতে পারছেন

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের লোগো

Last Updated on 3 hours by zajira news

অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা ফেরত পেতে শুরু করেছেন গ্রাহকেরা। প্রথম দিন যে গ্রাহকেরা আবেদন করেছিলেন, আজ তাঁরা টাকা ফেরত পেতে শুরু করেছেন।

ইতিমধ্যে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে শাখায় টাকা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনে টাকা স্থানান্তর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ফলে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরে আসতে শুরু করেছে।

একীভূত হওয়া পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মোট শাখা ৭৬১টি। এই ব্যাংকগুলো একীভূত হয়ে বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি হিসাবের গ্রাহকদের মূল আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে আজ থেকে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানত তোলার জন্য ৭৪ হাজার গ্রাহক আবেদন করেন। এসব আবেদনের বিপরীতে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়েছেন তাঁরা। গতকাল রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) ছিল আমানত তোলার আবেদনের শেষ দিন।

রাজধানীর গুলশান, মহাখালী, বনানী ও মতিঝিল এলাকার শাখাগুলোতে আজ সকালে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রথম দিনে আবেদনকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার জন্য প্রধান কার্যালয় থেকে শাখায় পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। সকাল থেকে এ পর্যন্ত অনেকে টাকা তুলেছেন। কেউ কেউ অপেক্ষায় আছে। যাঁরা আবেদন করছেন, শাখা থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ফরিদপুরের ভাঙ্গা শাখায় ৩০ লাখ টাকা জমা করেছিলেন সাবেক ব্যাংকার আবদুস সালাম। প্রথম দিন তিনি ১৪ লাখ টাকা তোলার জন্য আবেদন করেছিলেন৷ আজ সকালে তিনি ১৪ লাখ টাকা পেয়েছেন বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুই বছর টাকার জন্য ঘুরেছি। আজ অর্ধেক টাকা পেয়েছি।’

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের তোপখানা শাখার ব্যবস্থাপক রোখশানা আখতার প্রথম আলোকে বলেন, সকাল থেকে ১০ থেকে ১৫ জন গ্রাহককে টাকা দেওয়া হয়েছে। যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁরা টাকা পাচ্ছেন। এ ছাড়া যাঁদের নতুন মুনাফা জমা হয়েছে, তাঁরা ওই টাকা তুলতে পারছেন।

ইউনিয়ন ব্যাংক উত্তরা শাখার ব্যবস্থাপক এ বি এম মোকাররম মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম দিন আটজন টাকা তোলার আবেদন করেন। চার গ্রাহক টাকা তুলেছেন, অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া যাঁদের মুনাফা জমা আছে, তাঁরাও টাকা তুলতে পারছেন। কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে, গ্রাহকদের তা জানানো হয়েছে।

গ্রাহকদের কেউ কেউ ভোগান্তির কথাও জানান। এমন একজন গ্রাহক হলেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোহাম্মদ হোসেন। তিনি গনমাধ্যমকে বলেন, হেয়ারকাট বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, অনেক শাখা এ নির্দেশনা পায়নি।

মোহাম্মদ হোসেন আরও বলেন, অনেক গ্রাহকের জন্য নতুন হিসাব খুলে শুধু মূল টাকা জমানো হয়েছে, তাঁদের হেয়ারকাট বাতিল হবে কি না, সেটা জানানো হয়নি। বিষয়গুলো পরিষ্কার না করলে গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে না।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের মুনাফা কেটে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।