সময়ের জনমাধ্যম

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সেবা সহজ করতে ই-কনস্যুলার চালু করল বাংলাদেশ হাইকমিশন

Last Updated on 3 hours by zajira news

সজিব হাসান, মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের কনস্যুলার সেবা আরও সহজ ও দ্রুত করতে ডিজিটাল কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। এ লক্ষ্যে ‘ই-কনস্যুলার’ নামে একটি স্বয়ংক্রিয় সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে বাংলাদেশ মিশন।

নতুন এ পদ্ধতিতে নথি তৈরি, তথ্য যাচাই, অনুমোদন এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাইকমিশনের দূতালয় প্রধান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ই-কনস্যুলার ব্যবস্থার আওতায় নোটারি অব ইন্ট্রোডাকশন, একই ব্যক্তি মর্মে পাসপোর্ট রেকর্ডসংক্রান্ত পত্র, পারিবারিক সম্পর্কের প্রত্যয়নপত্র এবং স্বাক্ষর সত্যায়নপত্রসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়া হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহারে এসব সেবা আগের তুলনায় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে দেওয়া যাবে বলে আশা করছে হাইকমিশন।

পাসপোর্ট থেকে স্বয়ংক্রিয় তথ্য সংগ্রহ, নথিতে থাকবে কিউআর কোড

নতুন সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়েছে অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (ওসিআর) প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে পাসপোর্ট কিংবা এর ফটোকপি থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা যাবে। পরে সংশ্লিষ্ট নথি তৈরি করে তাতে যুক্ত করা হবে একটি স্বতন্ত্র কিউআর কোড।

এই কোড স্ক্যান করেই নথিতে থাকা তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল উপায়ে পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে। এতে তথ্য সংগ্রহ ও নথি তৈরির কাজ আরও গোছানো হবে। পাশাপাশি তথ্যগত ভুলের আশঙ্কা কমার পাশাপাশি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও সহজ হবে বলে মনে করছে হাইকমিশন।

ডিজিটাল যাচাইয়ে অনুমোদন, ড্যাশবোর্ডে নজরদারি

ই-কনস্যুলার ব্যবস্থায় আবেদন, ফি পরিশোধের রসিদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সিস্টেমের মাধ্যমে এসব নথি পরীক্ষা করে অনুমোদন দিতে পারবেন।

এ ছাড়া ড্যাশবোর্ড ব্যবহার করে সেবা প্রদানের বিভিন্ন ধাপ তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এতে। ফলে নথি ব্যবস্থাপনা ও অনুমোদন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ানোর পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে।

কার্ড ও কিউআর পেমেন্টে ফি জমা

কনস্যুলার সেবার নির্ধারিত ফি পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে হাইকমিশনের কাউন্টারে একাধিক পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন বসানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এসব মেশিনে ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, টাস এনজিও এবং কিউআর পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে সরকার নির্ধারিত ফি জমা দেওয়া যাবে।

নতুন এ ব্যবস্থায় ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে সময় কম লাগবে এবং সেবাগ্রহীতাদের অর্থ জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সুবিধাজনক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সশরীরে উপস্থিতির অনুরোধ

কনস্যুলার সেবা নিতে আগ্রহী প্রবাসীদের পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মূল কপি অথবা স্পষ্ট রঙিন ফটোকপি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছে হাইকমিশন। সেবা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কাউন্টারে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত ফি পিওএস মেশিনে অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির জন্য কনস্যুলার সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাসপোর্টসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, পারিবারিক সম্পর্কের প্রত্যয়ন এবং স্বাক্ষর সত্যায়নের মতো কাজে নিয়মিত এসব সেবা প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

হাইকমিশনের আশা, ই-কনস্যুলার চালুর ফলে কম সময়ে বেশি সংখ্যক মানুষকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আধুনিক করা এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।