Last Updated on 29 seconds by zajira news
অনলাইন ডেস্ক, জাজিরা নিউজ: মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট চালানোর পর গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা সরকার চায় না। তাঁরাও চান না।
ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালী কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে বলে অভিযোগ। পরে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নেওয়া হয়। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন।
স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে একটি পক্ষ ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে জায়গাটি দখলে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি গতকাল সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি দেখে এসেছেন। তবে রাতে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি পুলিশের উপকমিশনারের (ডিসি) সঙ্গে কথা বলেছেন।
পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জায়গাটি নিয়ে কোনো সমিতি ও এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের মধ্যে আইনি বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, জায়গা বা স্থাপনা নিয়ে কোনো সমস্যা থাকলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করতে হবে।
ভাঙচুরের পর টিকাদান কর্মসূচি চালু রাখা যাবে কি না, জানতে চাইলে প্রশাসক বলেন, সেখানে ইতিমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা তাঁদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন, তা করা হবে।
এ সময় প্রশাসককে প্রশ্ন করা হয়, দীর্ঘ সময় ধরে একটি স্থাপনা ভাঙার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কেন তা ঠেকাতে পারেনি। জবাবে তিনি বলেন, সেখানে পুরোপুরি কোনো ভবন ছিল না। টিনশেডের মতো স্থাপনা ছিল।
তাঁর জানামতে, জায়গাটি কাঁচাবাজার ও সেমিপাকা ধরনের ছিল। সেখানে কোনো ভবন বা স্থাপনা ছিল না। তবে যে-ই এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক, তাঁদের সমর্থন নেই। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


